বিয়ের বাইরের সম্পর্ক কোনো অপরাধ নয়! যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের, স্বস্তি পেলেন হাজারো তরুণ-তরুণী

ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং মানুষের চারিত্রিক বিচার নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দুই প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে গড়ে ওঠা কোনো সম্পর্ক কখনোই তাঁদের চরিত্রের মাপকাঠি হতে পারে না। আদালত এই রায়ে সামাজিক কুসংস্কারের বেড়াজাল ভেঙে প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার সূত্রপাত তেলঙ্গানার বাসিন্দা গজুলা তিরুপতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গজুলা তিরুপতি পুলিশ কনস্টেবল পদের জন্য সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। নিয়োগকারী বোর্ডের দাবি ছিল, ২০১৪ সালের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি ‘নৈতিক বিচ্যুতি’ বা ক্যারেক্টার ফ্ল-এর আওতায় পড়ে। অথচ ওই ঘটনাটি ছিল প্রায় এক দশকের পুরোনো এবং ২০১৫ সালেই লোক আদালতে পারস্পরিক আপোসের মাধ্যমে সেই বিবাদের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল। যেখানে কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি বা হুমকির প্রমাণ মেলেনি, সেখানে এমন পুরোনো একটি ঘটনাকে ভিত্তি করে একজন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার সিদ্ধান্তকে আদালত কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে।

আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সম্পর্ক ব্যর্থ হওয়া বা ভেঙে যাওয়া মানেই তাকে প্রতারণা হিসেবে দেখা যায় না। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ের আগে সম্পর্কে থাকা একটি স্বাভাবিক বিষয়। যদি দীর্ঘদিনের সম্পর্কে পারস্পরিক সম্মতি বজায় থাকে, তবে তা কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। নিয়োগকারী বোর্ডের এই ‘সংশয়’ বা ‘ধারণা’র ওপর ভিত্তি করে কাউকে বিচার করা আইনত ভুল। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অযৌক্তিক এবং অসাংবিধানিক।

আদালতের এই রায়ের ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে এক বিশাল প্রভাব পড়তে চলেছে। এর পর থেকে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত সম্পর্কের জন্য কোনো ব্যক্তি যাতে চাকরি থেকে বঞ্চিত না হন, তার আইনি পথ সুগম হলো। মামলার গুণাগুণ বিচার করতে হবে শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, কোনো নৈতিক বিচার বা সামাজিক ধারণার ওপর নয়। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। এককথায়, সুপ্রিম কোর্টের এই বার্তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করল এবং পুলিশ নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা দিল।