এনডিএ-র পথে তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ! নতুন দলে যোগ দিয়েই বিপাকে কাকলিরা?

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে রবিবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী থাকল দেশ। দলের বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে নির্বাচিত ২০ জন লোকসভা সাংসদ যোগ দিলেন ত্রিপুরা ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে। এই ঘটনা শুধু তৃণমূলের ভিতকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এক বড়সড় সমীকরণ তৈরি করেছে। এনডিএ (NDA) জোটের সমর্থক এই ছোট দলটিতে যোগদান করে বিদ্রোহী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।

তবে এই দলবদলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ২০ জন সাংসদের যোগদানের বিষয়টি দলের জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে জানতেই পারেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং খবরের মাধ্যমেই তিনি এই খবর পেয়েছেন। শান্তনু দে বলেন, “দলের সভাপতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শুনেছি, কিন্তু সভাপতি এখনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।” যদিও তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। হাওড়ার সাঁকরাইলের ‘জাগো বিশ্ব’ ভবনে নিবন্ধিত এই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের এমন অন্ধকারে থাকা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই দলবদল কেন তাৎপর্যপূর্ণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী মূলত বিজেপির অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় এনডিএ-র সঙ্গে জোট বাঁধতে চেয়েছিল। কিন্তু যে দলে তাঁরা যোগ দিলেন, সেই দলের সংগঠনের অন্দরে এই সমন্বয়হীনতা তাদের ভবিষ্যৎকে কতটা সুরক্ষিত করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শান্তনু দে জানিয়েছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার যদি কথা বলেন, তবে তাঁরা দিল্লি যেতেও রাজি। শীঘ্রই একটি প্রেস মিট করে পরবর্তী রণকৌশল জানাবে দলটি।

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই গণ-পদত্যাগের মাধ্যমে। তবে যারা বিজেপির অনুগ্রহ পেতে এনডিএ-র সমর্থন চাইছেন, তাঁদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এই পদক্ষেপ এক বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতে, এমন একটি আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়ে, যারা নিজের দলের সংগঠনের ব্যাপারেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ, তাতে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান কতটা মজবুত হবে—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গোটা ঘটনাটি যে আসন্ন বিধানসভা ও লোকসভার রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, এনসিপিআই এবং এই ২০ বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে আলোচনার পর রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।