অভিষেককে নিয়ে নতুন মোড়, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের ভয়েস রেকর্ডিং ও চার্জশিট ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল!

রাজ্যের প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপরতা তুঙ্গে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকাল থেকেই সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তলব রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি গত কয়েক মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে। এর মধ্যে সিবিআই-এর সাম্প্রতিক চার্জশিট এবং ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’-র কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অডিও রেকর্ডিং গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এই রেকর্ডিংয়ে এমন কিছু কথোপকথন রয়েছে যা তদন্তকারীদের তদন্তের অভিমুখকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় ইডি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা ফের চরমে। শাসক দলের অভিযোগ, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই অভিষেককে বারবার কেন্দ্রীয় তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর দাবি, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে এবং সেই শিকড় খোঁজার জন্যই তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেককে মূলত তিনটি বিশেষ বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে:
প্রথমত, নিয়োগ দুর্নীতির লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো যোগাযোগ আছে কি না।
দ্বিতীয়ত, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তা বা আর্থিক কোনো লেনদেনের সম্পর্ক।
তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর হাতে আসা তথ্যে অভিষেকের নাম উঠে আসায় তার ব্যাখ্যা কী—এ নিয়ে স্পষ্ট উত্তর খোঁজা।

উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। তিনি বারবার এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এবারের তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মামলার তদন্ত বর্তমানে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সিবিআই-এর চার্জশিট এই মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বড় মাথাদের নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা বলয় সকাল থেকেই কঠোর। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের নজর এখন ওই ভবনের দিকে। অভিষেককে কতক্ষণ জেরা করা হবে, জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বাইরে বেরিয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ। নিয়োগ দুর্নীতির মতো একটি গুরুতর মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কতদূর প্রভাবিত করে, তা দেখার অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।