পিডি ওমেন্স কলেজের ইউনিয়ন রুম এখন ‘নাইট বার’! তল্লাশিতে মিলল চাঞ্চল্যকর সব সামগ্রী

শিক্ষাঙ্গন মানেই জ্ঞানের আরাধনা, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যতের রূপকার তৈরির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সেই পবিত্র শিক্ষাপ্রাঙ্গণ যখন অপব্যবহারের আখড়ায় পরিণত হয়, তখন তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না। এমনই এক চরম লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল জলপাইগুড়ির পিডি ওমেন্স কলেজে। কলেজের ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুমটি কার্যত ‘নাইট বার’-এ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে জলপাইগুড়ি শহরজুড়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যখন এবিভিপি (ABVP)-এর কর্মী ও সদস্যরা কলেজের ইউনিয়ন রুমে আকস্মিক তল্লাশি চালান। ছাত্র সংসদের ঘরের দরজা খুলতেই যা দৃশ্য চোখে পড়ে, তা দেখে হতবাক হয়ে যান তাঁরা। ইউনিয়ন রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় একাধিক আপত্তিকর সামগ্রী। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ছাত্রীদের ইউনিয়ন রুমকে ব্যক্তিগত ফুর্তি ও মদ্যপানের আসর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ঘরের কোণে পড়ে থাকা মদের বোতল এবং অন্যান্য সামগ্রী সেই অভিযোগের সত্যতাকেই যেন প্রমাণ করছে।
এই ঘটনায় কলেজের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। একজন ছাত্রী যেখানে পড়াশোনার পরিবেশ পাওয়ার কথা, সেখানে এমন অসামাজিক কার্যকলাপ কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য, কলেজের ভেতরেই যদি এমন পরিবেশ থাকে, তবে তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায়? শিক্ষাঙ্গনের গরিমা ক্ষুণ্ণ করে যারা এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এবিভিপি কর্মীদের অভিযোগ, কলেজ প্রশাসনের মদত ছাড়া ইউনিয়ন রুমে এমন কাণ্ডকারখানা চালানো অসম্ভব। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সদুত্তর পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা যে কলেজের ভাবমূর্তিকে তলানিতে নিয়ে গেছে, তাতে সন্দেহ নেই।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন রুম কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও তার নজরদারির দায়ভার পুরোপুরি কর্তৃপক্ষের। ইউনিয়ন রুম কেন ক্লাসের সময়ের বাইরে খোলা থাকছে বা সেখানে কেন বাইরের কোনো অসামাজিক উপাদান প্রবেশ করছে, তা নিয়ে কলেজ প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে। জলপাইগুড়ির এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক বড় কালিমা লেপে দিল। এখন দেখার বিষয়, কলেজ প্রশাসন বা উচ্চশিক্ষা দপ্তর এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় না আনা পর্যন্ত ছাত্র সংগঠন ও অভিভাবকরা যে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা কার্যত অবধারিত।