উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় FIR-এ তোলপাড়

রাজ্য রাজনীতিতে ফের শিরোনামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে কলকাতার ধর্মতলার এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হলো এফআইআর (FIR)। সৌরিশ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যবসায়ী কলকাতা পুলিশের হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা।
ঠিক কী বলেছিলেন মমতা? গত মার্চ মাসে মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” তাঁর এই বক্তব্যকেই উস্কানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি পথে হেঁটেছেন অভিযোগকারী।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সৌরিশ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যের একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরণের মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন প্রশাসন এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (Suo Motu) দায়ের করল না। অভিযোগকারীর বক্তব্য, “ওরকম একজন পদাধিকারী কী করে এমন একটা কথা বলে দিতে পারেন! সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন যে কেউই এই ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন। পুলিশ তাদের কাজ করছে না বলেই নাগরিক হিসেবে আমাকেই এই পদক্ষেপ নিতে হলো।”
এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আরও স্পষ্ট করে দাবি করেছেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে তিনি ঠিক কোন ‘কমিউনিটি’ বা সম্প্রদায়ের কথা বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “উনি সবার আগে এসে বলুন উনি কাদের উদ্দেশে এই কথা বলেছেন। আমি পুলিশের ওপর আস্থা রাখছি, মানুষ তাকিয়ে আছে পুলিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই মামলাকে হাতিয়ার করে মমতার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের সময়কার কোনো মন্তব্য নিয়ে নির্বাচনের অনেক পরে দায়ের হওয়া এই এফআইআর রাজ্যের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলল। হেয়ার স্ট্রিট থানা এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না, বা আইনত এই মামলার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেদিকেই নজর এখন ওয়াকিবহাল মহলের। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী যেভাবে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।