অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে বড় বদল! ৩ জুনের আগে আবেদনকারীদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে গতি এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই চলছে জোরকদমে ফর্ম ফিলাপের কাজ। সাধারণ মহিলাদের একাংশ প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অনলাইনেই আবেদন প্রক্রিয়া সেরে ফেলছেন, তবে এখনও বহু মানুষ অফলাইন পদ্ধতির ওপরই ভরসা রাখছেন। এই পরিস্থিতিতে হুগলির চুঁচুড়া পুরসভা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা জারি করে আবেদনকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে।

পুরসভা সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, যে সমস্ত মহিলারা গত ৩ জুনের মধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের জন্যই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। চুঁচুড়া পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রচুর সংখ্যক পরিবার এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। প্রাথমিক আবেদনের সময় আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি জমা দিতে হয়েছিল। কিন্তু পুরসভার নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সুবিধাভোগীর নথিপত্রই যথেষ্ট নয়, এখন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ডের প্রতিলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যাঁরা গত ৩ জুনের মধ্যে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের এখন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নথির ফটোকপি পুনরায় পুরসভা অফিসে জমা দিতে হবে। যদি কোনো আবেদনকারী ইতিমধ্যে এই নথিপত্রগুলো জমা দিয়ে না থাকেন, তবে তাঁদের একটি সাদা কাগজে নতুন করে আবেদনপত্র লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই আবেদনে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের প্রধানের নাম, সুবিধাভোগীর নাম, ওয়ার্ড নম্বর এবং সেই ফোন নম্বরটি, যা মূল আবেদনপত্রের সাথে দেওয়া হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্য সরাসরি হুগলির চুঁচুড়া পুরসভা অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে।

পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিপত্র জমা না দিলে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ আবেদনপত্রটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। রাজ্যের অন্য কোনো পুরসভা থেকে এখনও পর্যন্ত এমন কোনো কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তাই চুঁচুড়া পুরসভার এই পদক্ষেপকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবেদনকারীরা অনেকেই এই নয়া নির্দেশিকায় কিছুটা বিভ্রান্ত। তবে প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করতে পুরসভার পরামর্শ মেনে দ্রুত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অনেকে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যাতে কোনোভাবেই আবেদন বাতিল না হয়, তার জন্য পুরসভার এই আপডেটগুলো নিয়মিত অনুসরণ করা প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।