নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে আজই কিনুন! কেন দাম আকাশছোঁয়া হতে চলেছে জানুন?

নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে আর দেরি করবেন না! কারণ আগামী দিনগুলোতে স্মার্টফোনের দাম আরও এক দফা বাড়তে চলেছে। ‘নাথিং’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও কার্ল পেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে মেমরি চিপের তীব্র ঘাটতি স্মার্টফোনের বাজারকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মেমরি চিপ এখন স্মার্টফোনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার উপাদানে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

কার্ল পেই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে খোলসা করেছেন যে, বর্তমান স্মার্টফোনগুলোতে প্রসেসর বা ডিসপ্লের চেয়েও মেমরি চিপের পেছনে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। অনেক ডিভাইসের মোট হার্ডওয়্যার খরচের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় হয় শুধুমাত্র মেমরির জন্য। নাথিং ফোন ৪এ-এর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ফোনটির উন্নয়নের সময় মেমরির যে দাম ছিল, বাজারে আসার পর তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বছরের শুরুতেই তিনি এই সংকটের আভাস দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে।

বাজার গবেষণা সংস্থা ‘টেকআর্ক’-এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ভারতে স্মার্টফোনের গড় দাম প্রায় ৭.৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছেন বাজেট স্মার্টফোন ক্রেতারা। ১০,০০০ টাকার কম দামের ফোনের দাম ১৭.৬ শতাংশ এবং ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার সেগমেন্টের ফোনের দাম ১৩.৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেট ফোনের মূল খরচের বড় অংশজুড়েই থাকে মেমরি চিপ। ফলে, উৎপাদন খরচ বাড়লে এই সেগমেন্টের ফোনগুলোর দাম বাড়া অনিবার্য।

পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, কোম্পানিগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী চিপ সংগ্রহ করতে পারছে না। নির্মাতারা হিমশিম খাচ্ছেন চিপের সীমিত বরাদ্দের কারণে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নতুন স্মার্টফোনগুলোর লঞ্চ প্রাইসে। ফেব্রুয়ারি মাসের পর বাজারে আসা বহু হ্যান্ডসেটের দাম পূর্বের মডেলের তুলনায় ১০০ ডলার পর্যন্ত বেশি রাখা হয়েছে। ভারতেও ৩০,০০০ টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনগুলোর দাম ৭,০০০ টাকা বা তার বেশি বেড়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো আসন্ন উৎসবের মরসুম। প্রতি বছর উৎসবের সময় বড় ডিসকাউন্ট ও অফারের আশায় ক্রেতারা নতুন ফোন কেনা স্থগিত রাখেন। কিন্তু কার্ল পেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেমরি চিপের এই সংকটের কারণে কোম্পানিগুলোর খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে আগের মতো বড় ছাড় বা মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে দেরি না করে বর্তমান বাজারমূল্যেই তা সংগ্রহ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।