মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু? হাইকোর্টের ভর্ৎসনার পর এবার পুলিশের কড়া নজরে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ঘিরে যে নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। বরং সেই ঘটনা এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসি-কাণ্ডের তদন্তে অরূপ বিশ্বাসকে আবারও তলব করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে থানায় সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। এটি নিয়ে মোট তিনবার সমন পাঠালো পুলিশ।
প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলাটির পটভূমি বেশ পুরোনো। গত ১৭ মে মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেই এফআইআর-এর সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গত ৪ জুন তাঁকে প্রথমবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তখন তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সময় চেয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার স্বপক্ষে তিনি কোনো বৈধ মেডিকেল রিপোর্ট বা নথিপত্র জমা দেননি। এরপর ৮ জুন পুনরায় তাঁকে তলব করা হয়, কিন্তু তখনও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। বর্তমানে অরূপ বিশ্বাসের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, পুলিশ সূত্রে তিনি কার্যত ‘নিখোঁজ’।
এই পরিস্থিতিতে আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার জন্য প্রাক্তন মন্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত সোমবার আদালত তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। আদালতের নির্দেশ, অনুমতি ছাড়া পুলিশ আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তদন্তে তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ধরনের অসহযোগিতার প্রমাণ মিললে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তা আদালতকে জানাতে পারবে। এছাড়া, তাঁকে নিম্ন আদালতে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি বিচারপতি অরূপ বিশ্বাসকে কড়া ভর্ৎসনার মুখেও ফেলেছেন। ভরা এজলাসে বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, “মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন! মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু?” বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, মেসির মতো বিশ্বখ্যাত তারকাকে ঘিরে এমন নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা দেশের অন্য কোথাও ঘটেনি। এই ধরনের কাণ্ড মেসির ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপরও প্রশ্ন তুলেছিল।
এখন দেখার বিষয়, তৃতীয়বার পাওয়া সমনের পর ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দেন কি না। আইনি জটিলতা এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের পর অরূপ বিশ্বাসের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে।