প্রসেনজিৎকে চিনতেই পারেননি বিশ্বজিৎ! ছেলের ‘রকস্টার’ লুকে মুগ্ধ বাবা করলেন পেনসিল স্কেচ

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত এবং যীশু সেনগুপ্ত ও সৌরভ দাস প্রযোজিত প্রথম বাংলা ছবি ‘অভিমান’। এই ছবি মুক্তির আগেই টলিপাড়ায় সৃষ্টি করেছে চরম উত্তেজনার। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন টলিউডের তিন স্তম্ভ—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়ে নিয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘রকস্টার’ লুক। আকাশ চ্যাটার্জি নামক এই চরিত্রে প্রসেনজিতের রূপান্তর এতটাই নিখুঁত যে, খোদ তাঁর বাবা, কিংবদন্তি অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও প্রথমে ছেলেকে চিনতে পারেননি।

ঘটনার সূত্রপাত ছবিটির টিজার প্রকাশের পর। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর বাবা যখন প্রথমবার টিজারটি দেখেছিলেন, তখন তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “এটা তুমি?” হাতে গিটার, মাথায় ক্যাপ পরা সেই রকস্টার লুক বাবা বিশ্বজিতের মনে গভীর রেখাপাত করে। সেই মুগ্ধতা থেকেই বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় ঠিক করেন, তিনি তাঁর ছেলের এই লুকটিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলবেন। নিজের হাতে আঁকা সেই পেনসিল স্কেচটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটপাড়ায় সাড়া পড়ে গিয়েছে।

ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানালেন তাঁর আঁকার নেশার কথা। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসি। ফিল্মে আসার আগে চারকোল, পেনসিল, ওয়াটার কালার—নানা মাধ্যমেই কাজ করেছি। আমার আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার কথাও ছিল। আজও যখনই কোনো ইন্টারেস্টিং বিষয় দেখি, পেনসিল তুলে নিই। বুম্বার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ছবিটা দেখে আঁকিনি, ওর লুকটা আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। আমি স্মৃতি থেকেই স্কেচটি করেছি।”

বাবার এই সৃষ্টি সম্পর্কে আবেগঘন পোস্ট করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “বাপির আঁকা এই ছবিটা শুধু একটি চরিত্রের প্রতিচ্ছবি নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একজন বাবার চোখে তার ছেলেকে নতুন করে আবিষ্কার করার গল্প।” একজন অভিনেতার কাছে তার অভিনয়ের চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কী হতে পারে, যখন স্বয়ং বাবা তার কাজের মধ্যে নতুন কোনো সত্তাকে খুঁজে পান? প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “তাঁর তুলির আঁচড়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। তাঁর ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আমার কাছে অমূল্য।”

‘অভিমান’ ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই দর্শকদের আগ্রহ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রসেনজিতের এই লুক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম এবং মেকআপ শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া। এখন দেখার পালা, রূপালি পর্দায় আকাশ চ্যাটার্জি হয়ে প্রসেনজিৎ দর্শকদের ঠিক কতটা মুগ্ধ করতে পারেন। বাবা বিশ্বজিতের এই শিল্পকর্ম যেন ছবিটি মুক্তির আগেই এক আবেগপ্রবণ মোড় তৈরি করে দিল।