২০১৪-র আগে ও পরের ভারত! মোদীর ১২ বছরের শাসনে কী বদলেছে? মুখ খুললেন যোগী আদিত্যনাথ

দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলের ১২ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ কেন্দ্রীয় সরকারের গত এক দশকের বেশি সময়ের উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন যে, বিগত ১২ বছরে ভারত কেবল বিশ্বমঞ্চে নিজের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করেনি, বরং এক শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০১৪-এর ভারত বনাম বর্তমান ভারত
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বক্তব্যে ২০১৪ সালের পূর্ববর্তী সময় এবং বর্তমান ভারতের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০১৪ সালের পরের ভারত, ২০১৪ সালের আগের ভারত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।” তাঁর মতে, গত ১২ বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সময়ের মধ্যে ভারত কেবল অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী হয়নি, বরং বিশ্বের দরবারে তার কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হয়েছে।

উন্নয়ন ও বিশ্বমঞ্চে মর্যাদা
যোগী আদিত্যনাথের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত আজ এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশ ভারতকে সমীহের চোখে দেখে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে। তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তাধারা এবং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রই আজকের ভারতের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ১২ বছরের শাসনামলে ভারত যেভাবে সংকট মোকাবিলা করেছে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়েছে, তা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য গর্বের বিষয়। দেশের প্রতিটি প্রান্ত আজ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

আগামীর স্বপ্ন ও সংকল্প
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ভারতের এই জয়যাত্রা কেবল একটি সরকারের সাফল্য নয়, বরং এটি ১৪০ কোটি দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণের গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন যে, মোদীর হাত ধরে ভারত আগামী দিনে বিশ্বের ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। বর্তমানের এই আত্মনির্ভর ভারত আজ কেবল নিজের প্রয়োজনই মেটাচ্ছে না, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রয়োজনেও ত্রাতা হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে যোগী আদিত্যনাথ দেশবাসীকে নতুন সংকল্পের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অবিচল নিষ্ঠার সঙ্গে দেশসেবা করে চলেছেন, তা দেশের প্রতিটি যুব প্রজন্মের জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা।