‘কেন পুত্রসন্তান হলো না?’ তিন মাসের শিশুকন্যাকে রেখেই বধূকে শ্বাসরোধ করে খুন, স্বামীর যাবজ্জীবন

পুত্রসন্তান না হওয়ার অপরাধ! এই জঘন্য কুসংস্কারের বলি হলেন এক তরুণী গৃহবধূ। মাত্র তিন মাসের শিশুকন্যাকে রেখে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে রায় দিল আদালত। দোষী সাব্যস্ত স্বামীসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ঘটনাটি ঘটেছিল কিছুদিন আগে। বিয়ের পর থেকেই বধূর ওপর শ্বশুরবাড়িতে চলত লাগাতার মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। অভিযোগ, পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারায় তাঁকে বারবার লাঞ্ছিত করা হতো। মাত্র তিন মাসের শিশুকন্যা কোলে থাকা অবস্থাতেই একদিন সকালে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
কীভাবে ফাঁস হলো আসল ঘটনা? শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মৃতদেহটিকে তড়িঘড়ি ‘অসুস্থতার’ কারণে মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নিহতের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় পুলিশের তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। খুনের মোটিভ হিসেবে উঠে আসে পুত্রসন্তান না হওয়ার প্রতি প্রতিহিংসা।
আদালতের রায়: দীর্ঘ শুনানির পর আজ আদালত এই মামলায় ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। আদালতের এই রায়কে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ ও যৌতুক বা লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোশ্যাল অডিট: এই ঘটনাটি ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কন্যাশিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে অপরাধের মানসিকতা কতটা গভীরভাবে শিকড় গেড়ে আছে। মাত্র তিন মাসের এক শিশু মা হারালো শুধু পুত্রসন্তান না হওয়ার তথাকথিত ‘অপরাধে’। এই নৃশংস রায় বুঝিয়ে দিল, আইন হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা করলে তার শেষ পরিণতি জেলখানাই।