নতুন বাংলার নতুন সরকার, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, সুশান্ত থেকে স্বপন—কে কোথায় পেলেন জায়গা?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর, আজ লোকভবনে অনুষ্ঠিত হলো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। লোকভবনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা। রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত ও ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের সুর ধ্বনিত হয়। এই মন্ত্রিসভার বিশেষত্ব হলো, এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের বিচক্ষণতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বিধায়কদের উদ্দীপ্ত তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ১৩ জন বিধায়ক। তালিকায় যেমন রয়েছেন অভিজ্ঞ মুখ, তেমনি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে শঙ্কর ঘোষ এবং কোচবিহারের দীপক বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দাপুটে নেতা তাপস রায় এবং অর্জুন সিংকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্তর অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভার গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, মনোজ কুমার ওরাওঁ, অরূপকুমার দাস, অজয়কুমার পোদ্দার, কল্যাণ চক্রবর্তী এবং বীরভূমের পোড় খাওয়া নেতা দুধকুমার মণ্ডল।

এই মন্ত্রিসভার কাঠামো বিন্যাসে সামাজিক ও ভৌগোলিক সমীকরণ অত্যন্ত সুচারুভাবে বজায় রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক কাজকর্মকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে তিনজন মন্ত্রীকে ‘স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী’ করা হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম হলো চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়া জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের কণ্ঠস্বরকে সরকারের মূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই রাজেশ মাহাতো এবং মালতী রাভা রায়কে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও ১৬ জন বিধায়ক। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ অশোক দিন্দা, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বিশাল লামা, শান্তনু প্রামাণিক, আনন্দময় বর্মন, চাঁদ বাউরি এবং জোয়েল মুর্মুসহ একগুচ্ছ নতুন মুখ। মন্ত্রিসভার এই বিন্যাস থেকে এটি স্পষ্ট যে, নতুন সরকার রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করতে চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা—শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং রাহুল সিনহা। শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রীদের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে উন্নয়নের সুর। তাঁদের মূল লক্ষ্য—রাজ্যের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোকে দ্রুত গতির পথে নিয়ে আসা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। লোকভবনের এই মেগা অনুষ্ঠান ঘিরে আজ উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। এখন দফতর বণ্টনের অপেক্ষায় বাংলার মানুষ। দ্রুত কাজ শুরু করে এই বিশাল মন্ত্রিসভা রাজ্যের প্রশাসনিক রূপরেখাকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর জনতা।