“তাপপ্রবাহে বদলে যাবে অর্থনীতি?”-কেন জিনিসের দাম বাড়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

আবহাওয়া দফতর আগেই সতর্ক করেছিল, আর এবার সেই আশঙ্কায় সিলমোহর দিলেন অর্থনীতিবিদরা। চলতি বছর ভারত সাক্ষী হতে চলেছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের। দেশের অনেক জায়গার তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই চরম গরম কেবল শারীরিক অস্বস্তিই নয়, আপনার পকেটেও বড়সড় কোপ বসাতে চলেছে।
দ্বিমুখী বিপদ: শরীর ও অর্থ
‘Infomerics Ratings’-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ মনোরঞ্জন শর্মা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমের প্রভাব পড়বে সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে। তাঁর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা ধাক্কা খাওয়ায় বাজারে চাহিদা বাড়বে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। এমনকি প্রচণ্ড গরমে কাজ ব্যাহত হওয়ায় অনেকের রোজগার কমবে এবং কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইলেকট্রিক বিলে ছ্যাঁকা!
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে:
পিক পাওয়ার ডিমান্ড ইতিমধ্যেই ২৫০–২৫৬ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।
এসি, কুলার ও ফ্রিজের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে বাড়তি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের ইলেকট্রিক বিলে শুধু ইউনিট খরচই নয়, যুক্ত হতে পারে বাড়তি সারচার্জ। অর্থাৎ মাস শেষে মোটা টাকা বিল আসা এখন সময়ের অপেক্ষা।
খাবারের থালায় টান?
চরম গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিকাজ। ২০২২ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপপ্রবাহের জেরে গমের ফলন ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। এবারও সেই একই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফলন হ্রাস: অতিরিক্ত তাপে ফসল নষ্ট হয়, যার ফলে বাজারে চাল-ডাল-সবজির সরবরাহ কমে যায়।
মূল্যবৃদ্ধি: আইপিসিসি (IPCC)-এর গবেষণা বলছে, চরম তাপমাত্রা সরাসরি খাবারের দাম বাড়িয়ে দেয়, যা মধ্যবিত্তের হেঁশেলে বড় ধাক্কা দেবে।
পরিকাঠামোয় চাপ
তীব্র গরমে দেশের পরিকাঠামো বা ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমের ওপরও বিপুল চাপ পড়ে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে খরচ বাড়ে, যার চূড়ান্ত দায় মেটাতে হয় ক্রেতাকেই।