আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সিসিটিভি কেলেঙ্কারি! গায়েব গুরুত্বপূর্ণ হার্ডড্রাইভ?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ সম্বলিত হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েবের অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রসিকিউটরদের একাংশ দাবি করছেন সিসিটিভি ফুটেজে কারসাজি করা হয়েছে, অন্যদিকে অন্যপক্ষ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝেই সামনে এসেছে ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
কি ঘটেছিল সিসিটিভি হার্ডড্রাইভ নিয়ে? ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ১৩টি হার্ডড্রাইভের মধ্যে একটিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু হার্ডড্রাইভ সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে যা বর্তমানে তদন্তাধীন। জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট হার্ডড্রাইভ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার জায়গায় নতুন একটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যদিও সিসিটিভি ব্যবস্থাপনায় থাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) রেজিস্টার অনুযায়ী, হার্ডড্রাইভটি নষ্ট হওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
‘ভারী ব্যাগ’ ও ১ কোটি টাকার ঘুষ বিতর্ক: এই ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি এসআই শেখ আবজালের স্ত্রী গত নভেম্বরে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের রুমে একটি ‘ভারী ব্যাগ’ নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। সুলতান মাহমুদের দাবি, তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীতে ওই আসামি রাজসাক্ষী হয়ে আদালত থেকে খালাস পান।
এর পাশাপাশি, কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনাও ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অভিযুক্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার অবশ্য ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউটরদের মধ্যে মতবিরোধ: অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি এবং আমার রুমে ভারী ব্যাগ আসার তথ্যও মিথ্যা। হার্ডড্রাইভের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র।” অন্যদিকে, তানভীর হাসান জোহা অনড় তার অবস্থানে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হার্ডড্রাইভ প্রতিস্থাপনের ঘটনাটি রহস্যজনক এবং এটি নিয়ে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি কাজ করছে।
অপেক্ষায় তদন্ত প্রতিবেদন: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে রদবদল ঘটিয়ে আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ও হার্ডড্রাইভ বিতর্কে ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখলেই বোঝা যাবে, পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল।