মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেই দলিত শ্রমিকের চরম পদক্ষেপ! তোলপাড় পাঞ্জাব রাজনীতি

পাঞ্জাবের সংগ্রুরের এক দলিত শ্রমিক গুলজার সিংয়ের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল চণ্ডীগড়ে। মঙ্গলবার পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা-র বাসভবন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করে চণ্ডীগড় পুলিশ। এই উত্তপ্ত বিক্ষোভের জেরে পাঞ্জাবের কংগ্রেস ইন-চার্জ তথা রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট এবং বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া সহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। যদিও প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য গুলজার সিং পাঞ্জাবের ভয়াবহ মাদক সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন মন্ত্রী হরপাল সিং চিমার কাছে। এরপরেই ওই শ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিজের মৃত্যুর আগে তিনি অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার নাম উল্লেখ করে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই মন্ত্রীর পদত্যাগ, অবিলম্বে এফআইআর দায়ের এবং তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে সরাসরি পথে নামে কংগ্রেস।
এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে আপ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শচীন পাইলট। তিনি অভিযোগ করেন, পাঞ্জাবে এখন ঘরে ঘরে হেরোইনের হোম ডেলিভারি চলছে। গুলজার সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রীর নাম থাকা সত্ত্বেও কেন এখনও আইনি পদক্ষেপ বা পুলিশি তদন্ত হল না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, পাঞ্জাবের এই ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে তিনি সবার আগে থাকবেন এবং প্রথম লাঠিটি তাঁর গায়েই পড়বে বলে হুংকার দেন শচীন পাইলট।
একমঞ্চে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব
এদিনের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাব কংগ্রেসের অন্দরেও বড়সড় রাজনৈতিক ঐক্যের ছবি ধরা পড়েছে। বিগত প্রায় তিন মাস ধরে দূরত্ব বজায় রাখার পর অবশেষে একই মঞ্চে দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ চরণজিৎ সিং চান্নি এবং পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং-কে। দুই নেতার এই যৌথ উপস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল পিছনে ফেলে শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দল কোনও নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মুখকে সামনে রেখে লড়বে না। কেন্দ্রীয় নেতাদের যৌথ মুখ এবং জনকল্যাণমূলক ইস্যুকে সামনে রেখেই ময়দানে নামবে কংগ্রেস। সবমিলিয়ে, দলিত শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পাঞ্জাব রাজনীতি এখন আরও কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।