কথা রাখলেন নওশাদ! রেজিনগরে সরে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামে খাস তালুকে কাকে প্রার্থী করল আইএসএফ?

কথামতোই বড় পদক্ষেপ করল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। এর আগেই দলীয় নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিল যে রেজিনগর উপনির্বাচনে তারা প্রার্থী দিচ্ছে না, তবে লড়াই হবে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে। সেই ঘোষণা মতোই এবার আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল আইএসএফ। এই আসনে দলের পক্ষ থেকে লড়ছেন মহম্মদ সবে মিরাজ আলি খান।

মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন আইএসএফ প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের অফিস সম্পাদক নাসিরুদ্দিন মীর এবং রাজ্য কমিটির সদস্য লক্ষ্মীকান্ত হাঁসদা। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে এই প্রার্থী দিয়ে উপনির্বাচনের লড়াইকে বেশ ত্রিমুখী ও জমজমাট করে তুলল নওশাদের দল।

কে এই মহম্মদ সবে মিরাজ আলি খান?

নন্দীগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট পরিচিত মুখ হলেন মহম্মদ সবে মিরাজ আলি খান। ঐতিহাসিক ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি তথা তৎকালীন নন্দীগ্রামের শক্তিশালী জমি আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিগত বাম জমানার শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন জনস্বার্থ আন্দোলন এবং সরকার বিরোধী লড়াইয়ে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল। ফলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই যে তিনি লড়াইয়ে নামছেন, তা স্পষ্ট।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী মেজাজে মিরাজ আলি খান জানান, এই লড়াইয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না দল। মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নের ইস্যুকে সামনে রেখেই প্রচার চালাবেন তাঁরা। অন্যদিকে, আইএসএফ নেতা নাসিরুদ্দিন মীর বলেন, “নন্দীগ্রামে আমাদের লড়াকু প্রার্থী মানুষের পাশে থেকে ময়দানে লড়াই করবেন। বিজেপির বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একজোট করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সবমিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র এই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে আইএসএফের এই প্রার্থী ঘোষণা ভোটের উত্তাপ যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।