“তেল সংকটে নয়া মোড়!”-সরবরাহ কমতেই বিকল্প পথে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক, কী এই ৩০ দিনের ‘মার্কিন ছাড়’?

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার মাঝেই ভারতের জ্বালানি কূটনীতিতে বড়সড় রদবদল। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারত এখন আরও বেশি করে ঝুঁকছে রাশিয়ার দিকে। পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে নয়াদিল্লি।
আরব সংকটে ভারতের তেল-অঙ্ক
হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে। পশ্চিম এশিয়া থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতের মোট তেল আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়েছে রান্নার গ্যাসের (LPG) ওপর, যার আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি কাতার থেকে এলএনজি (LNG) সরবরাহ মার্চ মাসে রেকর্ড ৯২ শতাংশ কমে গিয়েছে।
পুতিনের তেলের ম্যাজিক ও মার্কিন ছাড়
২০২৫-এর শেষে এবং ২০২৬-এর শুরুতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও মার্চে তা রকেটের গতিতে বেড়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সমুদ্রপথে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভারত বিপুল পরিমাণ রুশ তেল নিজেদের ভাণ্ডারে মজুত করে নিয়েছে।
বিকল্পের খোঁজে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
শুধুমাত্র রাশিয়া নয়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন আফ্রিকার দেশগুলোর দিকেও হাত বাড়িয়েছে। অ্যাঙ্গোলা, গ্যাবন, ঘানা এবং কঙ্গো থেকে তেল আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকা, ওমান এবং নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি এলএনজি আমদানির মাধ্যমে কাতারের ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স সংস্থা ‘কেপলার’-এর বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা জানিয়েছেন, “পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত তেল সংগ্রহ জারি রাখতে পারছে।” তাঁর মতে, এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরান এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গেও কথা চালাচ্ছে ভারত।