রক্তক্ষয়ী নন্দীগ্রাম! মনোনয়ন জমার সকালেই পিটিয়ে খুন তৃণমূল কর্মীকে, আঙুল বিজেপির দিকে

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের অগ্নিগর্ভ নন্দীগ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের ভেকুটিয়া অঞ্চলে শক্তিপদ দাস (৬৫) ওরফে ফড়িং নামের এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও গেরুয়া শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন শক্তিপদবাবু। সকাল ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তাঁকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। তড়িঘড়ি তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে তৃণমূলের মিছিলে যেতে নিষেধ করেছিল। এমনকি তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়ন জমার সময় উপস্থিত না থাকার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই হুমকি উপেক্ষা করেই এদিন প্রার্থীর মিছিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি, আর তার আগেই এই হামলা।

ভোটের আবহে এই নিয়ে রাজ্যে তিনজনের খুনের অভিযোগ উঠল। প্রথমে রায়দিঘিতে বিজেপি কর্মীর হাত কেটে খুন এবং পরে কলকাতায় তৃণমূল কর্মীকে ঘরে ঢুকে গুলি করার পর এবার নন্দীগ্রামের এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, থমথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।