মঙ্গলের গভীরে বিশাল গুহা! চিনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারে তোলপাড় বিশ্ব, তবে কি লাল গ্রহে ছিল প্রাণের মেলা?

মঙ্গল গ্রহ মানেই কি শুধু ধুলো ওড়া শুষ্ক মরুভূমি? চিনা বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরাচরিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। লাল গ্রহের ‘হেব্রাস ভ্যালিস’ (Hebrus Valles) অঞ্চলে এমন ৮টি রহস্যময় গুহার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যা সম্ভবত জলের প্রবাহে তৈরি হয়েছে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম পৃথিবীর বাইরের কোনো গ্রহে ‘কার্স্ট গুহা’ (Karst Caves)-র অস্তিত্বের কথা বলা হচ্ছে।

গবেষকদের দাবি, এই গুহাগুলি কোনো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা উল্কাপাতের ফলে তৈরি হয়নি। বরং কোটি কোটি বছর আগে জলের সঙ্গে শিলার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে এগুলি গঠিত হয়েছে। নাসার ‘মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ার’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই অঞ্চলে কার্বনেট ও সালফেটের মতো খনিজ উপাদানের হদিস মিলেছে, যা জলের উপস্থিতি ছাড়া তৈরি হওয়া অসম্ভব। এই আটটি গভীর গর্ত আসলে মঙ্গলের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল জগতের প্রবেশদ্বার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো প্রাণের অস্তিত্ব। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠতলের মারাত্মক তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও ধুলোর ঝড় থেকে বাঁচতে যদি কোনো অণুজীব টিকে থাকে, তবে এই গুহাগুলিই ছিল তাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। অর্থাৎ, ভিনগ্রহী প্রাণের সন্ধানে এবার আর শুধু গ্রহের ওপরের স্তরে নয়, মানুষের নজর যাবে লাল গ্রহের গভীরে। ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে এই সুড়ঙ্গগুলিই হতে চলেছে মূল লক্ষ্যবিন্দু।