১০ বছর পর ফের উত্তপ্ত JNU! মোদী-শাহের বিরুদ্ধে ‘কুরুচিকর’ স্লোগান, মাঝরাতে FIR কর্তৃপক্ষের!

২০১৬ সালের সেই কুখ্যাত ‘দেশদ্রোহী স্লোগান’ বিতর্কের স্মৃতি উস্কে ২০২৬-এর শুরুতে ফের রণক্ষেত্র জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ‘আপত্তিজনক’ ও ‘কুরুচিকর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। মঙ্গলবার এই ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবাদ সভা থেকে স্লোগান বিতর্ক ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। ২০২০ সালের ক্যাম্পাস হিংসার ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে সবরমতী হস্টেলের বাইরে একটি সভার ডাক দিয়েছিল জেএনইউ ছাত্র সংসদ (JNUSU)। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন খারিজ করে দেয়। এরপরই ওই সভা রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নেয়। অভিযোগ, সেই জমায়েত থেকেই দেশের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান তোলা হয়, যার ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

‘ঘৃণার গবেষণাগার’ হতে দেব না: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মঙ্গলবার এক কড়া বিবৃতিতে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে কোনোভাবেই ‘ঘৃণার গবেষণাগার’ (Labs of hate) হতে দেওয়া হবে না। বাকস্বাধীনতার নামে ঘৃণা ছড়ানোর অধিকার কারও নেই। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই বসন্ত কুঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নাম জড়িয়েছে ছাত্র সংসদ সভাপতি অদিতি মিশ্ররও। দোষী সাব্যস্ত হলে পড়ুয়াদের চিরতরে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বিতর্ক। বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং প্রতিবাদী ছাত্রদের ‘আরবান নকশাল’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির মতে, আদালতের রায়ের প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার পড়ুয়াদের থাকলেও ভাষার ব্যবহারে সংযত হওয়া উচিত।

১০ বছর পর প্রেক্ষিত বদলালেও চরিত্র এক? ২০১৬-র সেই ঘটনার পর কানহাইয়া কুমার এখন কংগ্রেস নেতা, শেহলা রশিদ মোদী সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আর উমর খালিদ আজও কারাবন্দি। ১০ বছর পর ২০২৬-এর এই নতুন স্লোগান বিতর্ক জেএনইউ-র ভবিষ্যৎকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।