ভারতের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর’ ইন্দোরের ভাগীরথপুরার এক চিলতে ঘরে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর কোল আলো করে এসেছিল অব্যয়ান। কিন্তু কে জানত, দুধে মেশানো নর্মদার কলের জলই তার জন্য বিষ হয়ে দাঁড়াবে? মাত্র ৫ মাস ১৫ দিনের অব্যয়ান সাহু চলে গেল না ফেরার দেশে।
১০ বছরের স্বপ্ন চুরমার: সুনীল ও কিঞ্জল সাহুর ঘরে বড় মেয়ের জন্মের ঠিক ১০ বছর পর গত ৮ জুলাই জন্মেছিল অব্যয়ান। পরিবারে খুশির জোয়ার এসেছিল। কিন্তু দিন কয়েক আগে এলাকায় দূষিত জলের প্রকোপ দেখা দেয়। অব্যয়ানের মা তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারতেন না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে প্যাকেটের দুধে সামান্য জল মিশিয়ে খাওয়ানো হতো। সেই জলই ছিল দূষিত। ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শিশুটির।
প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ: পেশায় কুরিয়ার কর্মী সুনীলের অভিযোগ, এলাকায় জল যে দূষিত তা ঘুণাক্ষরেও জানায়নি প্রশাসন। কোনো সতর্কতা বা ঘোষণা করা হয়নি। পাড়ার বহু মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অব্যয়ানের ঠাকুমার বিলাপ, “ভগবান সুখ দিয়েছিলেন, আবার কেড়ে নিলেন।” ইন্দোরে জলবাহিত রোগে ইতিমধ্যেই ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অব্যয়ানই সর্বকনিষ্ঠ।