সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-দের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকাই হতে চলেছে প্রধান রণক্ষেত্র। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে প্রায় দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে।
হিন্দিভাষী ভোটারদের পরামর্শ: এদিন উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকেই ভুল বুঝিয়ে বলেন যে বিহার বা ইউপিতে ভোট না দিলে সম্পত্তি হারাবেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আপনারা এরাজ্যে কাজ করেন, এখানেই থাকেন। তাই বাংলায় থাকতে হলে এবং সরকারি সুবিধা পেতে হলে ওখানের তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে এখানেই নাম তুলুন।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটলে কারোর আইনত সম্পত্তির অধিকার চলে যায় না।
কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি: দলের নেতা ও কর্মীদের ঢিলেমি নিয়ে এদিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচন পর্যন্ত কোনও আমোদ-প্রমোদ বা ‘পিকনিক’ চলবে না। তিনি বলেন, “এখন শুধু কাজ হবে। সব উৎসব আর পিকনিক হবে ২০২৬-এ জেতার পর।” কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বেছে বেছে তৃণমূল সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
কমিশন ও শাহ-কে আক্রমণ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট লুঠের চেষ্টা চলছে। এই “ষড়যন্ত্র” রুখতে বুথ স্তরে কর্মীদের পাহাড়ার কাজ করার ডাক দিয়েছেন তিনি।