গুলশন কলোনি রহস্য! ২ লক্ষ বাসিন্দার ভিড়ে ভোটার হাতেগোনা! ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে তুঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি তরজা

দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনি। গত কয়েক মাস ধরে খবরের শিরোনামে থাকা এই জনবহুল এলাকাকে কেন্দ্র করে এবার দানা বাঁধল বড়সড় রহস্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কলোনিতে বসবাস করেন প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার মানুষ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা বলছে, সেখানে ভোটার সংখ্যা মাত্র ২০৭৩ জন! এই বিশাল পার্থক্যের জেরেই প্রশ্ন উঠছে— বাকিরা কারা? তাঁরা কি ভিন রাজ্যের নাগরিক, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো সত্য?

ভোটার তালিকায় কোপ: বাদ পড়ল শতাধিক নাম কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গুলশন কলোনির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬০ জন। যার মধ্যে মূল কলোনির ভোটার ২০৭৩ জন। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর দেখা গিয়েছে, ওই এলাকা থেকে মোট ৫৪৮ জনের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ২১৯ জন গুলশন কলোনির বাসিন্দা।

বিজেপির তোপ: “অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য”
এই অসঙ্গতি সামনে আসতেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলীয় কাউন্সিলর সজল ঘোষের কটাক্ষ, “২ লক্ষ মানুষ থাকেন, আর ভোটার মাত্র ৩ হাজার? তাতেও আবার নাম বাদ দিতে হল! এটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে এখানে কাদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে।” বিজেপির অভিযোগ, এই কলোনি মূলত অপরাধী এবং বাংলাদেশিদের গোপন ডেরা, যাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে শাসকদল।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ফিরহাদের: “বিজেপি ক্ষমা চাক”
বিজেপির অভিযোগকে নস্যাৎ করে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতাদের খুশি করতে বিজেপির স্থানীয় নেতারা ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো লাফাচ্ছে। রোহিঙ্গা আর অনুপ্রবেশকারী বুঝিয়ে অমিত শাহদের মাথা খারাপ করছে তারা।” ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের দাবি, গুলশন কলোনিকে বদনাম করার যে চেষ্টা বিজেপি করেছিল, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতাদের অবিলম্বে ওই এলাকার মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

রয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন: বাসিন্দারা আসলে কোথাকার?
রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝেও কয়েকটি বাস্তব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না:

প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মধ্যে কেন মাত্র ২০৭৩ জন ওই এলাকার ভোটার?

বাকি বিপুল সংখ্যক মানুষ কি ভিন রাজ্যের শ্রমিক? তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের সঠিক নথি কি প্রশাসনের কাছে আছে?

বিএলও-রা (BLO) কি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন?

সেপ্টেম্বর মাসে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হওয়া এই গুলশন কলোনি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই নয়া তথ্য রাজনৈতিক উত্তাপকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।