কোটি কোটি চাকরিজীবীদের জন্য বিরাট সুখবর শোনালেন কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (Provident Fund) থেকে টাকা তোলার দীর্ঘকালীন ও জটিল প্রক্রিয়া এবার চিরতরে শেষ হতে চলেছে। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে গ্রাহকরা তাঁদের জমা টাকার ৭৫ শতাংশ সরাসরি এটিএম (ATM) এবং ইউপিআই (UPI)-র মাধ্যমে তুলতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বড় ঘোষণা: সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী জানান, ইপিএফ উইথড্রল প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে কাজ করছে সরকার।
-
ডেডলাইন: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই নতুন ফিচার চালু হয়ে যাবে।
-
সুবিধা: গ্রাহকদের আর নথিপত্র বা ফর্ম জমা দিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না। এটিএম বা কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা পাওয়া যাবে।
-
পরিমাণ: বিশেষ প্রয়োজনে আমানতের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অবিলম্বে তোলা যাবে।
নিয়মে বড় পরিবর্তন ও সরলীকরণ: আগে পিএফ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে অনেক বাধা থাকলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ১. চাকরির মেয়াদ: আগে বিয়ের জন্য টাকা তুলতে অন্তত ৭ বছর চাকরি করতে হতো। এখন মাত্র ১ বছর বা ১২ মাস চাকরি করলেই টাকা তোলা যাবে। ২. বেকারত্ব বা চাকরি হারানো: কেউ চাকরি হারালে তিনি তৎক্ষণাৎ ৭৫ শতাংশ টাকা তুলে নিতে পারবেন। বাকি ২৫ শতাংশ এক বছর পর তোলা সম্ভব। ৩. ফর্মের ঝামেলা শেষ: বর্তমানে পিএফ-এর ১৩টি ভিন্ন ক্যাটেগরিকে একত্রীকরণ করা হয়েছে যাতে গ্রাহকদের টাকা পেতে হয়রানি না হতে হয়। ৪. অংশীদারিত্ব: এখন এমপ্লয়ি ও এমপ্লয়ার— উভয়ের কন্ট্রিবিউশনই অবসর গ্রহণের আগে বিশেষ প্রয়োজনে তোলা যায়।
কেন এই উদ্যোগ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মতে, পিএফ-এর টাকা আসলে গ্রাহকদের নিজস্ব জমানো অর্থ। বিপদের সময় বা বিশেষ প্রয়োজনে সেই টাকা পেতে কেন মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে? এই সরলীকরণের ফলে বিশেষ করে যুব প্রজন্ম এবং যারা জরুরি প্রয়োজনে টাকা চান, তারা সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন।
সম্পাদকের নোট: ৫৫ বছরের পর, স্বেচ্ছায় অবসর নিলে বা শারীরিক সক্ষমতা হারালে পিএফ-এর সম্পূর্ণ টাকা তোলার নিয়ম যেমন ছিল, তেমনই থাকছে। তবে এটিএম পরিষেবা চালু হলে তা ভারতের ব্যাঙ্কিং ও সঞ্চয় ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।