“তৃণমূলকে হারাব, বিজেপিকে আটকাব!” ১৩৫ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করে নতুন দল গড়ছেন হুমায়ুন কবীর

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার নিজের রাজনৈতিক দল গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে ৪ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর নতুন দলের নাম ও ৭৫ জনের রাজ্য কমিটি ঘোষণা হতে চলেছে। হুমায়ুনের স্পষ্ট লক্ষ্য— আসন্ন নির্বাচনে ১৩৫টি আসনে লড়াই করে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বিজেপিকে রোখা।

হুমায়ুন কবীরের মেগা প্ল্যান: নতুন দল নিয়ে বড়সড় দাবি করেছেন এই বিতর্কিত নেতা। তাঁর পরিকল্পনার মূল দিকগুলি হলো:

  • নির্ণায়ক শক্তি: হুমায়ুনের দাবি, ১৩৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ৭০ থেকে ৯০টি আসনে জিতে তিনি বিধানসভায় ‘কিং মেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও আবাস যোজনা: তিনি ক্ষমতায় এলে মাসে ১২০০ টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং গ্রামের গরিবদের বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও শহরতলিতে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

  • বাবরি মসজিদ নির্মাণ: ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হলো বাবরি মসজিদ পুনরায় নির্মাণ করা।

জোট প্রসঙ্গে ‘ছুৎমার্গ’ নেই: কংগ্রেস, বাম, মিম (AIMIM) নাকি আইএসএফ (ISF)— কার সঙ্গে জোট করবেন হুমায়ুন? এই প্রশ্নে তাঁর উত্তর, “আমার কোনও ছুৎমার্গ নেই। যারা তৃণমূলের দুর্নীতি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চায়, সবার জন্য দরজা খোলা। মিম বা নওশাদ সিদ্দিকী যে কেউ আসতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আসাউদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে তাঁর এখনও কোনও যোগাযোগ হয়নি।

বিজেপি কানেকশন ও অতীত বিতর্ক: হুমায়ুন কবীরের দলবদলের ইতিহাস দীর্ঘ। একদা বিজেপিতে যাওয়ার সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ এবং তৎকালীন তৃণমূল নেতারা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল, তাই সে সময় বিজেপিতে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।” একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে তাঁর গোপন আঁতাতের খবরকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব: মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুর, বীরভূম ও নদিয়ার মতো মুসলিম প্রধান জেলাগুলোতে হুমায়ুনের নতুন দল যদি সত্যিই প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তা তৃণমূলের ‘নিশ্চিত’ ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সম্পাদকের নোট: হুমায়ুন কবীরের এই পদক্ষেপ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদায় তৃণমূলের ভোট কাটাকাটির অঙ্ক এখন থেকেই দুশ্চিন্তায় রাখছে ঘাসফুল শিবিরকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy