৩১৩ শিক্ষকের চাকরি বাতিল হাইকোর্টের! প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে স্তব্ধ পাহাড়ের সব স্কুল

শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার ফের বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নির্দেশে উত্তরবঙ্গের ৩১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এই রায়ের প্রতিবাদে এবং গত ২৫ বছর ধরে পাহাড়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং-এর সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বন্ধ রাখার ডাক দিল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।

আদালতের কড়া পদক্ষেপ: জিটিএ (GTA) এলাকায় বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানান, নিয়োগে ব্যাপক বেনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এরপরেই ৩১৩ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। উল্লেখ্য, এই নিয়োগ বিতর্কে আগেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিনয় তামাং এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম জড়িয়েছিল।

পাহাড়ের শিক্ষক সমিতির ক্ষোভ: মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, গত আড়াই দশকে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। যোগ্য প্রার্থীদের বদলে রাজনৈতিক প্রভাবে ‘স্বেচ্ছাসেবক’দের দিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিবাদে কাল থেকে পাহাড়ের স্কুলগুলোতে তালা ঝোলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি চলতি পরীক্ষা বা ফল প্রকাশও স্থগিত রাখা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও অচলাবস্থা: শিক্ষক ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ও। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে তৃণমূলের অস্থায়ী শিক্ষাবন্ধু সমিতির আন্দোলনের জেরে গত চারদিন ধরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলছে। এর ফলে:

  • এসএসসির চাকরিপ্রার্থীরা এসেও সার্টিফিকেট তুলতে পারছেন না।

  • স্কলারশিপ জমা দিতে পারছেন না বহু পড়ুয়া।

  • সাত দিনের ‘পেন ডাউন’ ধর্মঘটের পর তালাবন্দি হওয়ায় থমকে গিয়েছে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়: একদিকে আদালতের নির্দেশে কয়েকশো শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়া এবং অন্যদিকে পাহাড় জুড়ে স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ডাক—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy