নিজের বুথেই অস্বস্তিতে শুভেন্দু! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় গর্জে উঠলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী, ছাড়তে চান বাংলা

খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী কেন্দ্র এবং তাঁর নিজের বুথেই ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তুঙ্গে উঠল বিতর্ক। পরিবারের সবার নাম থাকলেও নাম নেই খোদ পরিবারের প্রধানের! এমনকি বাদ পড়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মীরাও। এই চূড়ান্ত অব্যবস্থার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এক ভোটার সাফ জানিয়েছেন, নাম না উঠলে সপরিবারে রাজ্য ছেড়ে উত্তরপ্রদেশ চলে যাবেন তিনি।

প্রাক্তন সেনাকর্মীর কান্না ও ক্ষোভ: নন্দীগ্রামের ৭৯ নম্বর বুথ, যাকে শুভেন্দুর ‘নিজের বুথ’ হিসেবে ধরা হয়, সেখানেই এই বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। জনৈক প্রাক্তন সেনাকর্মী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী হয়েও আজ আমাকে প্রমাণ দিতে হচ্ছে যে আমি ভারতীয়! এসআইআর-এর গেরোয় আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” দীর্ঘ বছর দেশের সেবা করার পর নিজের দেশেই নাগরিকত্বের এই টানাপোড়েন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

শুভেন্দুর বুথের পরিসংখ্যান: নন্দীগ্রামের ৭৯ নম্বর বুথ (নায়কবাড়) এলাকায় মোট ৭১১ জন ভোটারের মধ্যে ১১ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি:

  • বাদ পড়া ১১ জনের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ নাম তোলেননি।

  • কিন্তু বাকি ৭০০ জনের মধ্যে ৪ জনকে নতুন করে ‘হেয়ারিং’ বা শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

পরিবারের প্রধানরাই ‘ব্রাত্য’: বিস্ময়কর বিষয় হলো, বেশ কিছু পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও, পরিবারের যিনি প্রধান বা কত্তা, তাঁর নামই গায়েব হয়ে গিয়েছে। কেন এমন ‘বেছে বেছে’ নাম বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে বিএলও বা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম: শুভেন্দু অধিকারী যখন দাবি করছেন যে এসআইআর-এর ফলে ‘ভুতুড়ে’ ভোটাররা বাদ যাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে খোদ সেনাকর্মীদের নাম বাদ পড়া রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে অস্ত্র করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, যে ৪ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy