‘আইওয়াশ’ রাজীব কুমারের শোকজ, ‘গ্রেফতারি চাই’ অরূপ-সুজিতের, মেসি কাণ্ডে নবান্নের পদক্ষেপ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর চরম কটাক্ষ

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নবান্ন থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার-কে শোকজ (Show Cause) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই আবহে ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অরূপ বিশ্বাস ইস্তফা দিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

তবে এই সমস্ত পদক্ষেপকে ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো বলে মনে করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি:

মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই ঘটনায় কেবল ইস্তফা বা শোকজ যথেষ্ট নয়।

“রাজীব কুমারের শো-কজ শুধুমাত্র আইওয়াশ। রাজীব কুমার এই রাজ্যের অলিখিত হোম মিনিস্টার। অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফায় কিছু হবে না! আমরা গ্রেফতারি চাই। অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর গ্রেফতারি চাই,” চরম কটাক্ষ করে বলেন শুভেন্দু।

  • গ্রেফতারের দাবি: বিরোধী দলনেতার দাবি, এত যুবকের আবেগ ও টাকা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। দর্শকদের পিটিয়ে পুলিশ জেলে ভরেছে, আগে তাঁদের জামিন দিতে হবে।

  • হাইকোর্টে মামলা: শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় ইতিমধ্যে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন। তিনি জানান, আদালত বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি করবে।

নবান্নের কড়া পদক্ষেপ:

অন্যদিকে, নবান্ন থেকে জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:

  • শোকজ: রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া সচিব রাজেশ কুমার সিনহা-কে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাছে এই বিশৃঙ্খলার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

  • কর্তাদের অপসারণ: যুবভারতীর সিইও দেবকুমার নন্দকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ডিসিপি পদমর্যাদার এক আধিকারিককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT): ঘটনার গভীরে তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের পরামর্শে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই দলে পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার ও মুরলীধরের মতো অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসাররা রয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কড়া পদক্ষেপের পরেও বিরোধীরা বিষয়টিকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরে আসতে দিচ্ছে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy