কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নপূরণের জন্য সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে চাকরিজীবী বা মধ্যবিত্ত যে কেউই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করা এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বজায় রাখা। SIP-এর মাধ্যমে চক্রবৃদ্ধি (Compounding) সুবিধাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার অর্থকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সহজ হিসাব:
| বিনিয়োগের পরিমাণ (মাসিক) | বার্ষিক রিটার্ন (গড়) | সময়কাল (বছর) | মোট বিনিয়োগ (প্রায়) | মোট কর্পাস (প্রায়) |
| ₹৩০,০০০ | ১২% | ৮ বছর | ₹২৮.৮ লক্ষ | ₹৪৮ লক্ষ |
| ₹৩০,০০০ | ১২% | ১৩ বছর | ₹৪৬.৮ লক্ষ | ₹১.১২ কোটি+ |
SIP-এর ম্যাজিক: ১৩ বছরে কোটিপতি হওয়ার কৌশল
যদি আপনি প্রতি মাসে ₹৩০,০০০ টাকার একটি SIP শুরু করেন এবং গড়ে ১২% বার্ষিক রিটার্ন পান:
-
৮ বছরের ফল: এই সময়ের মধ্যে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ₹২৮.৮ লক্ষ টাকা, যা রিটার্ন-সহ প্রায় ₹৪৮ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, আপনার অর্থ প্রায় দ্বিগুণ হলেও, কোটি টাকা হওয়া এখনও সম্ভব নয়।
-
১৩ বছরের লক্ষ্যপূরণ: আপনি যদি ১৩ বছর ধরে ₹৩০,০০০ টাকার মাসিক SIP চালিয়ে যান, তবে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ₹৪৬.৮ লক্ষ টাকা। এই সময়ের মধ্যে আনুমানিক রিটার্ন প্রায় ₹৬৬ লক্ষ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার মোট সম্পদ ₹১.১২ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এভাবেই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি কোটিপতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন।
স্টেপ-আপ SIP: লক্ষ্য দ্রুত অর্জনের সেরা উপায়
যাঁদের বেতন প্রতি বছর বৃদ্ধি পায়, তাঁদের জন্য ‘স্টেপ-আপ SIP’ একটি বুদ্ধিমানের কাজ। এই কৌশলে, প্রতি বছর আপনার SIP-এর পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন ১০ শতাংশ) বৃদ্ধি করা হয়।
-
দ্রুত কোটিপতি হওয়ার উদাহরণ: যদি আপনি ₹৩০,০০০ থেকে শুরু করেন এবং প্রতি বছর আপনার SIP ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করেন, তাহলে গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরে আপনি মাত্র ১০ বছরেই প্রায় ₹১ কোটি টাকার কর্পাস তৈরি করতে পারেন।
এই সহজ পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমেই মধ্যবিত্ত মানুষও কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন সফল করতে পারেন।