যুবভারতীর ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে শেষমেশ ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রীর পদ ছাড়লেন অরূপ বিশ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ‘নিরপেক্ষ’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দফতরটি নিজের হাতেই রাখবেন।
নৈতিকতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইস্তফা:
জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাস সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, যুবভারতী কাণ্ডে যে তদন্ত চলছে (তদন্ত কমিটি ও সিট গঠিত হয়েছে), মন্ত্রিত্বের প্রভাব যাতে সেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করে বা তা ‘কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়’, সেই কারণেই তিনি অব্যাহতি চাইছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন এবং তাঁর ‘আবেগ ও উদ্দেশ্য’-এর প্রশংসা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা চিঠিতে লেখেন, “তিনি (অরূপ) সঠিক কথা বলেছেন। যতক্ষণ না নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ এই দফতর আমি দেখব।” অর্থাৎ, তদন্ত চলাকালীন ক্রীড়া দফতরের রাশ নিজের হাতে রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিলেন।
দিনভর নাটক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
মঙ্গলবার সকাল থেকেই অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার খবর রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু করে। প্রথমে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইস্তফাপত্রটি প্রকাশ করে জানান যে তা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বিকেলে তিনি সেই পোস্ট এডিট করে ধোঁয়াশা তৈরি করেন যে, ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি এবং মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই নাটকীয়তার শেষে দিনের শেষে স্পষ্ট হয়, অরূপের ইস্তফা গৃহীত হয়েছে।
-
বিদ্যুৎ মন্ত্রী হিসেবে বহাল: ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব ছাড়লেও অরূপ বিশ্বাস আপাতত বিদ্যুৎ মন্ত্রী হিসেবেই মন্ত্রিসভায় থাকছেন।
-
নবান্নে তলব: মঙ্গলবার দুপুরে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নবান্নে তলব করা হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, দফতর প্রধানের পরিবর্তনের কারণেই এই জরুরি তলব করা হয় এবং আধিকারিকরা দফতরের বর্তমান কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ায় এটা স্পষ্ট যে যুবভারতী কাণ্ডের তদন্তে কোনো রকম গাফিলতি বা অস্বচ্ছতা বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার এবং এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।