প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জর্ডন সফরে আম্মানের আল হুসেইনিয়া প্রাসাদে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল হুসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই কূটনৈতিক আলোচনার বাইরেও কিন্তু জর্ডনের রাজপরিবারের সঙ্গে ভারতের এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে, যার কারণ জর্ডনের রাজরানী সর্বথ ইকরামুল্লাহর জন্মস্থান। আরও স্পষ্ট করে বললে, রাজরানীর জন্ম কলকাতায়।
কলকাতায় জন্ম, বিখ্যাত সোহরাওয়ার্দি পরিবারে:
জর্ডনের রাজরানী সর্বথ ইকরামুল্লাহর জন্ম ভারতের স্বাধীনতা দিবসের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ২৪ জুলাই ১৯৪৭ সালে কলকাতায় হয়েছিল। সেই সময় তিনি বাংলার বিখ্যাত সোহরাওয়ার্দি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
-
বাবা-মা: সর্বথ ইকরামুল্লাহর বাবা মোহম্মদ ইকরামুল্লাহ ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন এবং পরে তিনি পাকিস্তানের প্রথম বিদেশমন্ত্রী হন। তাঁর মা শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দি ইকরামুল্লাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাংসদ এবং মরক্কোর রাষ্ট্রদূত।
-
শিক্ষা ও বিবাহ: তিনি ব্রিটেনে পড়াশোনা করেন এবং পরে ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বাবার কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেন। এই সময়েই লন্ডনে জর্ডনের হাশেম রাজবংশের যুবরাজ হাসান বিন তালালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ১৯৬৮ সালের ২৮ অগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে প্রিন্স তালালের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। এরপর এই দম্পতি আম্মানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁদের চার সন্তান—রাজকুমারী রহমা, সুমায়া, বাদিয়া এবং প্রিন্স রশিদ।
ক্রাউন প্রিন্সেস ও সমাজসেবায় অবদান:
রাজকুমারী সর্বথ ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জর্ডনের ক্রাউন প্রিন্সেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তিনি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেন।
-
প্রতিষ্ঠা: তিনি ১৯৮১ সালে জর্ডনে প্রথম দ্বিভাষিক আন্তর্জাতিক স্নাতক প্রতিষ্ঠান আম্মান স্নাতক স্কুল-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও তৈরি করেন।
-
প্রথম জর্ডনদিয়া নারী: সর্বথ ইকরামুল্লাহ প্রথম জর্ডনদিয়া মহিলা যিনি তাইকোয়ান্দোতে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেছিলেন। তিনি জর্ডন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সম্মানসূচক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-
উপসাগরীয় যুদ্ধ: ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি চিকিৎসার জন্য ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি সরবরাহ করেছিলেন।
১৯৯৯ সালে ছেলে প্রিন্স আবদুল্লাহকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করায় সর্বথের মেয়াদ শেষ হয়। তাঁর কাজের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত এবং একাধিক পুরস্কার ও সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেছেন।