ফের উত্তরবঙ্গে আলাদা কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনে নামল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কমিটি (KSDC)। মঙ্গলবার ভোর থেকে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের চারেরবাড়ি এবং ধূপগুড়ির আলতাগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন রেল লাইনের ধারে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। এদিন তারা রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত জমায়েতের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
KLO প্রধান জীবন সিংয়ের সঙ্গে কেন্দ্রের দ্রুত শান্তি চুক্তি স্থাপন।
-
কামতাপুর এবং বৃহত্তর কোচবিহার রাজ্যের পুনর্গঠন।
-
কামতাপুরী ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
এদিনের আন্দোলনে KSDC, KPP, AKRSU, KPPU, GCPA সহ একাধিক রাজবংশী ও কামতাপুরী সংগঠন যৌথভাবে অংশ নেয়। রেল অবরোধের আশঙ্কায় ভোর থেকেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রচুর রেল পুলিশ ও আরপিএফ। প্রশাসনের এই আগাম পদক্ষেপে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা:
আন্দোলনকারীদের পক্ষে নিখিল রায় বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের জন্য পৃথক রাজ্য এবং কামতাপুরি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করছি। দাবি পূরণ না-হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি, KLO চিফ জীবন সিং-এর সঙ্গে আগামী সপ্তাহের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হোক। এই দাবি কেন্দ্রের কাছে পৌঁছনোর জন্যই আমরা রেল অবরোধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।” তিনি জানান, রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি দিতে চারটি জেলার সদস্য-সমর্থকরা এদিন জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রেক্ষাপট: মুখ্যমন্ত্রীকে জীবন সিংয়ের বার্তা
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই, গত ৯ ডিসেম্বর, কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা বয়কটের জন্য রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন কেএলও নেতা জীবন সিং। নিজের গোপন ডেরা থেকে ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথক কামতাপুর রাজ্যের বিরোধিতা করেন। তাই রাজবংশী সম্প্রদায়ের কেউ তাঁর সভায় যাবেন না।” ১৯৯৫ সালে গঠিত KLO কামতাপুরী স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে। জীবন সিং এখনও অধরা থাকলেও, তাঁর বিভিন্ন বার্তা প্রায়শই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।