যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা, ‘হ্যাংলা’ বলে নিজের দলের নেতাদেরই খোঁচা কুণালের, পাল্টা নিশানা বিজেপির অশোক দিন্দাকে

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনায় এবার পরোক্ষে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর পরিবারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। নাম না-করেই তিনি মন্তব্য করেন, যাঁরা ‘হ্যাংলার মতো’ সেলফি তুলেছেন, স্টেডিয়ামের ভিতরে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির টাকা তাঁদের থেকেই আদায় করা হোক। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের পাল্টা হিসাবে তিনি বিজেপির বিধায়ক অশোক দিন্দার সপরিবার উপস্থিতি নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছেন।

‘হ্যাংলার মতো’ ভিড় করাদের থেকে টাকা আদায়ের দাবি

শনিবার যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ও ভাইঝি সহ রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু এবং বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীদের পরিবারের সদস্যদের মাঠে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলকে নিশানা করেন।

যার জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা তো বলছি, যেটা হয়েছে সেটা অনুচিত। সাধারণ মানুষ যাঁরা টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষোভ স্বাভাবিক। আর যাঁরা হ্যাংলার মতো মাঠে ঢুকে মেসিকে ঘিরে ধরেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু, সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটি সব দেখছে।”

কুণাল আরও যোগ করেন, “অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রী, তিনি সেখানে থাকবেন স্বাভাবিক। কিন্তু, বাকি যাঁরা সেখানে হ্যাংলার মতো চলে গেলেন, তাঁর দায় বেসরকারি আয়োজক সংস্থা তথা শতদ্রু দত্তর। তিনি এবং তাঁর সংস্থা কীভাবে বাকিদের অ্যালাও করলেন?”

বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার সপরিবার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কুণাল ঘোষ এবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুণাল বলেন, “শুভেন্দু ছবি দেখিয়ে বলছেন, এ ছিল, ও ছিল। উনি নিজের দলের বিধায়ক অশোক দিন্দার ছবি দেখাচ্ছে না কেন? তিনিও তো সপরিবারে মেসির সামনে গিয়ে সেলফি তুলেছেন! তাহলে অশোক দিন্দা ভিতরে কী করে ঢুকলেন? কেন তিনি আয়োজকদের বললেন না, যে তিনি যাবেন না? তাই এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং না-লাগিয়ে, যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী ও আয়োজকদের নিশানা করলেন সেলিম

এই ইস্যুটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তিনি ধৃত আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রসঙ্গে বলেন, “পঞ্জাবে পাঁচটা নদীর একটা হল শতদ্রু। আরও চারটে আছে। তাই সেদিন যুবভারতীতে একা শতদ্রু ছিলেন না। আরও অনেক মাথারা ছিলেন। গ্রেফতার করতে হলে পঞ্চ পাণ্ডবকে গ্রেফতার করা হোক। একা শতদ্রু কেন?” মুখ্যমন্ত্রীকেও নিশানা করে সেলিম বলেন, “আয়োজকরা তো মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তারপর দুই মন্ত্রীর কে মেসির দখল নেবে, সেই নিয়ে রেষারেষি শুরু করে দিল। এরা খেলাটা ও তার আবেগকে বোঝে না। এরা বোধে টাকা। তাও কালো টাকা।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy