হাতে-পায়ে ঝিন ঝিন ধরা, কেবল সাময়িক চাপ নয়, স্নায়ু রোগেরও লক্ষণ হতে পারে!

হাতে-পায়ে ঝিন ঝিন ধরা একটি অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু বিরক্তিকর উপসর্গ, যার কেতাবি নাম ‘টেম্পোরারি প্যারেসথেসিয়া’ (Temporary Paresthesia)। সাধারণত, হাত বা পায়ের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে চাপ পড়লে যে সাময়িক অসাড়তা তৈরি হয়, তাকেই আমরা ঝিন ঝিন ধরা বলে থাকি। মূল কারণ হলো—আমাদের শরীরে ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুগুলির ওপর সাময়িক চাপ সৃষ্টি হওয়া।

এই সময় শরীরের আক্রান্ত অংশে অসাড়তার পাশাপাশি এমন একটি অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যেন হাজারো পিন বা সূঁচ দিয়ে একসাথে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণত কিছুক্ষণ পর এই অস্বস্তিকর অনুভূতি চলে গিয়ে অঙ্গটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

ঝিন ঝিন ধরার কারণ ও প্রক্রিয়া:

আমাদের দেহের সর্বত্র অসংখ্য স্নায়ু রয়েছে, যা মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে।

  • স্নায়ুতে বাধা: শরীরের কোনো অংশে একনাগাড়ে চেপে বসলে সেখানকার স্নায়ু এবং রক্তনালিতে বাধা পড়ে। এর ফলে স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কে সংবেদন পাঠাতে পারে না।

  • অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস: একইসঙ্গে রক্ত সরবরাহকারী শিরার ওপর চাপ পড়ায় স্নায়ুগুলো হৃদপিণ্ড থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পাওয়া থেকে বিরত থাকে।

  • সংবেদন ফিরে আসা: যখন চাপ সরে যায়, তখন হঠাৎ করে সেই অংশে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং স্নায়ুগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই আকস্মিক, বিপুল পরিমাণ রক্ত ও সংবেদন মস্তিষ্কে প্রবাহিত হতে শুরু করলে মস্তিষ্ক ভুলবশত এটিকে ‘পিন পিন’ করার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের বাড়তি ঝুঁকি: যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের অনেকের মধ্যেই পেরিফেরাল স্নায়ু রোগের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্যায় পায়ের পাতা ঘন ঘন অবশ হয়ে যেতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে এই অবশ ভাব শরীরের উপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

‘ঝিন ঝিন ধরা’ অনুভূতির ৩টি ধাপ:

  1. কমপ্রেশন টিঙ্গলিং (Compression Tingling): চাপ প্রয়োগ হওয়ার মিনিট খানেক পর যে অস্বস্তিকর অনুভূতি ৩ থেকে ৪ মিনিটের জন্য স্থায়ী হয়। অনেকে এটিকে ‘চামড়ার ভেতরের অংশে পিঁপড়ে দৌড়াদৌড়ি করার’ মতো বলে বর্ণনা করেন।

  2. অসাড়তা: এই ধাপটি সাধারণত ১০ মিনিট পর শুরু হয় এবং যতক্ষণ স্নায়ুর ওপর চাপ থাকে, ততক্ষণ হাতে বা পায়ে অসাড়তা বোধ হয়।

  3. পিনস অ্যান্ড নিডলস (Pins and Needles): এটি শেষ ধাপ, যা চাপ অপসারণ করার পর শুরু হয়। এটি প্রথম দুই ধাপের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। কোনো অঙ্গে যদি নিয়মিত বা বারবার ঝিন ঝিন ধরার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে এটি স্নায়ুর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy