কিডনি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা জলের ভারসাম্য বজায় রাখে, দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে এবং লোহিত রক্তকণিকার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। কিডনি মানব শরীরের একটি নীরব ঘাতক; একবার এটি আক্রান্ত হলে বা সংক্রমণ দেখা দিলে শরীরে একের পর এক জটিল সমস্যা বাসা বাঁধতে শুরু করে। শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কিডনির যত্ন নেওয়া অপরিহার্য।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কিডনিকে সুস্থ রাখতে আমাদের কোন নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে:
১. পর্যাপ্ত জল পান: আমাদের শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ জল। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান না করলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে, ফলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং এর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়।
২. ঘুমের স্বল্পতা এড়ান: দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী মেডিসিন। কম ঘুম কিডনি নষ্ট হওয়ার একটি প্রধান কারণ। ঘুমের সময়ই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনির টিস্যুর নবায়ন ঘটে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কিডনির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমে যায়।
৩. লবণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: কিডনির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত লবণ সোডিয়ামের বড় উৎস। পরিপাকের সময় এই সোডিয়াম প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কিডনিকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা এর ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। তাই খাবারে লবণের পরিমাণ সীমিত করুন।
৪. অপুষ্টির মোকাবিলা: বর্তমানে খাদ্যে পুষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় আমরা প্রায় প্রত্যেকেই অপুষ্টির শিকার। এমনকি স্থূলকায় ব্যক্তিরাও পুষ্টির ঘাটতিতে ভোগেন। ফলস্বরূপ, এই অপুষ্টি থেকেই কিডনি রোগ দেখা দিচ্ছে। কিডনিকে সুস্থ রাখতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার বেছে নেওয়া জরুরি।
৫. ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান কিডনি নষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি কিডনিসহ শরীরের সব অঙ্গের জন্যই ক্ষতিকর। ধূমপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে থাকে, ফলে এর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং একপর্যায়ে ব্যক্তি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।
৬. অ্যালকোহলে আসক্তি হ্রাস: অ্যালকোহলে থাকা বিষাক্ত টক্সিন শুধু লিভারের নয়, কিডনিরও মারাত্মক ক্ষতি করে। শরীর থেকে এই টক্সিন দূর করতে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ হয়, যা এটিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিডনি সুস্থ রাখতে হলে অ্যালকোহলে আসক্তি কমাতে হবে।
৭. ঔষধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা: কমবেশি প্রায় সব ঔষধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বাতের ব্যথা বা মাথা ব্যথার মতো নানা কারণে অনেকে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রুফেন জাতীয় ব্যথানাশক ঔষধ দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণ করেন, যা কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। তাই কোনো ঔষধ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।