ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবন পর্যন্ত বই পড়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। কেউ বসে পড়েন, আবার অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য শুয়ে শুয়ে বই পড়তে পছন্দ করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন—বসে বই পড়াটাই চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উত্তম। কারণ, শুয়ে বই পড়লে উপকারের চেয়ে ক্ষতিটাই বেশি হয় এবং তা চোখের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে।
শুয়ে বই পড়ার কারণে যে প্রধান সমস্যাগুলো হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক:
১. চোখের ওপর অস্বাভাবিক চাপ:
বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন, বই থেকে চোখের আদর্শ দূরত্ব কমপক্ষে ১৫ ইঞ্চি হওয়া উচিত এবং পড়ার সময় চোখের সঙ্গে বইয়ের কৌণিক মান (Angle) $60^{\circ}$ থাকা বাঞ্ছনীয়। শুয়ে বই পড়ার সময় এই আদর্শ কোণ বা দূরত্ব বজায় থাকে না, ফলে চোখের পেশির ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। এর ফলস্বরূপ, অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরে ক্লান্তি আসে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও পেশির ওপর চাপ পড়ে এবং চোখে রক্তচলাচল কমে যেতে পারে।
২. চোখ লাল হওয়া ও ড্রাই আই সিনড্রোম:
অনেকে মনে করেন, রাতে না ঘুমিয়ে বই পড়ার কারণেই চোখ লাল হয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, চোখের পেশিতে অত্যাধিক চাপ পড়ার কারণেই চোখ লাল হয়ে যায়, যা ‘অ্যাস্থেনোপিয়া’ রোগের একটি লক্ষণ। এই চাপের ফলে অশ্রুগ্রন্থির জল শুকিয়ে যেতে পারে। চোখের এই জলই চোখের মণিকে আর্দ্র রাখে এবং বাইরের ব্যাকটেরিয়া বা ধূলিকণা প্রবেশে বাধা দেয়। চোখের জল শুকিয়ে গেলে সহজেই বাইরের বাতাস থেকে ময়লা ও জীবাণু চোখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
৩. মাথা ব্যথা এবং ঘুমের ব্যাঘাত:
শুয়ে বই পড়ার কারণে চোখের ওপর যে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে, তা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেশির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তা মাথার পেশিতেও প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন নার্ভের মাধ্যমে ভিশনারি সেন্স মস্তিষ্কে পৌঁছায়। চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে নার্ভগুলো ঠিকমতো কাজ করে না, যা মাথা ব্যথার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে ঘুমের পরিমাণও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: শুয়ে বই পড়ার কারণে চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা না থাকলেও, চোখ যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই সতর্ক করেন। তাই বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই এই অভ্যাস পরিহার করা জরুরি।