কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (CVD) বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর আনুমানিক ১৭.৯ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর জন্য এই রোগ দায়ী, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশের কারণ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণেই এই জটিলতা দেখা দেয়।
আমাদের হৃৎপিণ্ড—যা একটি হাতের মুঠির আকারের—পাঁজরের খাঁচা এবং ফুসফুসের মধ্যে থেকে শরীরের সমস্ত অংশে রক্ত পাম্প করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে। রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে দেহ অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। যখন এক বা একাধিক করোনারি ধমনীতে প্লাক (চর্বি জমা) হওয়ার কারণে ব্লক তৈরি হয়, তখন ধমনী সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং হার্টের পক্ষে রক্ত পাম্প করা কঠিন হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের দিকে চালিত করে।
এই মারণ রোগ থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় আনা জরুরি এই ৮টি পরিবর্তন:
১. স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার: হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করার সেরা উপায় হলো একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা। অস্বাস্থ্যকর চর্বি, পরিশোধিত খাদ্য পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এড়িয়ে চলুন। ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার পাতে রাখুন, যা কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
২. সক্রিয় জীবনযাপন: দীর্ঘ ও রোগমুক্ত জীবন পেতে সব বয়সের মানুষের জন্য সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। এর মানে এই নয় যে ব্যয়বহুল জিমে যেতে হবে; বরং নিশ্চিত করুন যে আপনি দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকছেন না। গৃহকর্মে ব্যস্ত থাকুন, হাঁটুন বা যোগব্যায়াম অনুশীলন করুন। সম্ভব হলে, আপনার রুটিনে কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন, যা আপনার হার্টের পেশী শক্তিশালী করে।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ ধমনীর ইলাস্টিসিটি কমিয়ে ক্ষতি করতে পারে, যা হার্টে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ হ্রাস করে। নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করুন এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ নিন। নিম্ন রক্তচাপও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
৪. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ডায়াবেটিক রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালী নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ডায়াবেটিস আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা যান। তাই নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন এবং কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবার খান।
৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: শরীরের সুস্থ কোষ তৈরি এবং তাপ বজায় রাখার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন, কিন্তু অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীতে জমা হয়। এটি রক্তনালীর দেয়ালকে সংকীর্ণ করে এবং হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. স্ট্রেস কমান: মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতা অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। অত্যধিক চাপ মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বাড়ায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে স্ট্রেস কমিয়ে আনুন।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলকায় ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকের শিকার বেশি হন। কারণ অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৮. অ্যালকোহল এবং ধূমপান ত্যাগ: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এবং ধূমপান উভয়ই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই অভ্যাসগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। হার্টকে সুস্থ রাখতে দ্রুত এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন।