মাংস পিঠে ছাড়া অসম্পূর্ণ এই উৎসব! ছোটনাগপুর-বীরভূমে হিমের পরশে কুর্মি-সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী ‘সহরায়’ পরব!

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই রাঢ় অঞ্চল অর্থাৎ ছোটনাগপুর, মানভূম, বিহারের দুমকা, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও মেদিনীপুরের কুর্মি ও সাঁওতাল জনজাতি মেতে ওঠে তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাঁদনা বা সহরায় পরবে। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় এই উৎসবের সূচনা হলেও এটি চলে পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত।

গোটা রাঢ় অঞ্চল একসাথে এই উৎসব পালন করে না। এই সময়কালের মধ্যে প্রতি গ্রামের মোড়লের নির্দেশ অনুযায়ী একেকটি অঞ্চলে একেক সময়ে আলাদা আলাদা করে এই পাঁচ দিনের পরব পালিত হয়।

পরবের মূল কথা: গো-বন্দনা

বাঁদনা পরবকে অনেকেই ‘বন্ধন’ (বাঁধনা) অথবা ‘বন্দনা’ (বাঁদনা) থেকে আগত বলে মনে করেন। সারা বছরের কৃষিকাজ শেষে এই পাঁচ দিন গবাদি পশুদের সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া হয়। উৎসবের সময় আদিবাসী মহিলারা তাঁদের মাটির ঘর নতুন করে রঙের প্রলেপ দিয়ে আলপনা এঁকে সাজিয়ে তোলেন।

  • প্রথম দিন: গো-বন্দনা পরবের প্রথম দিন গরুকে পুজো করা হয়। সারা রাত ধরে গাওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী ‘আহিরি’ বা গরু জাগানো গান

  • দ্বিতীয় দিন: গরু খোঁটানো দ্বিতীয় দিন উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রথাটি পালিত হয়। গরুকে ফাঁকা মাঠে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাল কাপড় দেখিয়ে উত্তেজিত করা হয়। গরুটি দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। এই প্রথাকে বলা হয় ‘গরু খোঁটানো’

বিশেষ আকর্ষণ: মাংস পিঠে

পরবর্তী তিন দিন ধরে গবাদি পশুদের বিশেষ পরিচর্যা করা হয়—গা ধোয়ানো থেকে শুরু করে শিংয়ে তেল মাখানো অবধি। এর সঙ্গে উৎসবের বিশেষ পদ হিসেবে খাওয়া হয় মাংস পিঠে

দেশি মুরগির ছোট টুকরো, পেঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, হলুদ গুঁড়ো, চালগুঁড়ো, সর্ষের তেল এবং নুন মিশিয়ে তা দুটি কাঁচা শালপাতার মাঝে রেখে তাওয়ার উপর উল্টেপাল্টে ২ দিক পোড়ানো হয়। পর্যটকরাও রাঢ় অঞ্চলে এই সময়ে গেলে এই অনবদ্য পিঠের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। চেনা পিঠের বাইরে এই বিশেষ মাংস পিঠের স্বাদ নিজ গুণে অতুলনীয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy