SIR খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১৬ ডিসেম্বর, কীভাবে দেখবেন আপনার নাম, কাদের হেয়ারিং হবে এবং কী নথি দেখাতে হবে?

দীর্ঘ জল্পনা ও উৎকণ্ঠার পর SIR (Systematic Improvement of Records) এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এবার সারা রাজ্যের নজর আগামী ১৬ ডিসেম্বর, যেদিন প্রকাশিত হবে SIR খসড়া ভোটার তালিকা বা SIR Draft Roll 2026। নির্বাচন কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার পর তালিকায় নাম থাকা, না থাকা বা শুনানির জন্য বিবেচিত হওয়ার বিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে।

১. খসড়া তালিকা কীভাবে দেখবেন?

১৬ ডিসেম্বর তালিকা প্রকাশের পর অনলাইন ও অফলাইন দুটি পদ্ধতিতেই আপনি আপনার নাম পরীক্ষা করতে পারবেন:

পদ্ধতি বিস্তারিত
অনলাইন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সাইটে (Official Site) যেতে হবে। সেখানে SIR অপশনে গিয়ে নিজের এলাকার সমস্ত তথ্য দিতে হবে। তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা, তা দেখার জন্য এপিক নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রয়োজন হবে।
অফলাইন আপনার বুথের BLO Officer বা রাজনৈতিক দলের BLA প্রতিনিধিদের কাছে তালিকা পাওয়া যাবে। এছাড়া নির্বাচন বুথেও এই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২. এই তালিকা চূড়ান্ত নয়, এরপর কী হবে?

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত SIR Draft List চূড়ান্ত নয়। এটি মূলত নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পর এক মাস ধরে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময় দেওয়া হবে:

সময়কাল প্রক্রিয়া
১৬ ডিসেম্বর – ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি (Inclusion) ও আপত্তি (Objection) জানানোর সুযোগ।
১৬ ডিসেম্বর – ৭ ফেব্রুয়ারি দাবি ও আপত্তির ভিত্তিতে নোটিশ ও শুনানি (Hearing) অনুষ্ঠিত হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি সমস্ত যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Roll) প্রকাশিত হবে।

৩. কাদের হেয়ারিং বা শুনানি হবে?

১৬ ডিসেম্বরের খসড়া তালিকায় যাদের নাম থাকবে না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের হেয়ারিং হবে। তবে হেয়ারিং মানেই সন্দেহজনক তালিকায় নাম থাকা নয়।

  • কারা বিবেচিত হতে পারেন:

    • খসড়া তালিকায় নাম নেই এমন ভোটাররা।

    • যাদের নামের বানান ভুল বা নামের অমিল রয়েছে (এমনকি ২০০২ সালে নাম থাকলেও)।

    • BLO App-এ নাম ‘No Record Found’ দেখাচ্ছিল, এমন ভোটাররা।

    • সন্দেহজনক ম্যাপিং: বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৪৫-এর বেশি, অথবা দাদুর সঙ্গে নাতির বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম—এই ধরনের অসঙ্গতি থাকলেও শুনানি হতে পারে।

    • একই ব্যক্তির ৪-এর অধিক সন্তান প্রজেনি ম্যাপিং করেছে এমন ক্ষেত্রে।

দ্রষ্টব্য: নিজস্ব বা প্রজেনি ম্যাপিং থাকলেই হেয়ারিং হবে না এবং নন-ম্যাপিং থাকলেই হেয়ারিং হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সমস্ত কিছু নির্ভর করবে আপনার দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং পরিস্থিতির ওপর।

৪. হেয়ারিং-এর প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি

যাদের হেয়ারিং হবে, প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অথবা ফোন করে (যদি সংশ্লিষ্ট বুথে বাড়ি না থাকে) তাঁদের নোটিশ দেওয়া হবে।

  • কোথায় হেয়ারিং: স্থানীয় বুথ বা এলাকায় শুনানি হবে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে BDO বা SDO অফিসেও শুনানি হতে পারে।

  • সময় ও কর্মকর্তা: প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন করে ভোটারের শুনানি হবে। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এর জন্য অতিরিক্ত ২৯৪০+১৫০০ জন ERO নিযুক্ত করা হয়েছে।

  • নথি (Original ও Xerox): শুনানিতে নিম্নলিখিত নথিগুলি অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে:

    • ২০০২ সালের ভোটার তালিকা (নিজের বা নিকটাত্মীয়ের)।

    • যদি ভোটার তালিকা না থাকে, তবে কমিশনের দেওয়া ১৪টি নথি-র মধ্যে যেকোনো একটি (যেমন: মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট, পুরনো ব্যাঙ্কের বই, পাট্টা দলিল, বার্থ সার্টিফিকেট ইত্যাদি)।

উপসংহার

SIR প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যদি আপনার হেয়ারিং-এর চিঠি আসে, তবে স্পষ্টভাবে আপনার বক্তব্য পেশ করুন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখান। যারা বাইরে চাকরির কারণে বা অন্য কারণে ২০০২ সালে ভোট দিতে পারেননি, তাদের সমস্যা AI অ্যাপ বুঝতে পারবে না—সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy