কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি, আর সেই সুযোগেই দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন পূরণ হলো বাংলার এক সাধারণ চা বিক্রেতার। ইছাপুরের নবাবগঞ্জের বাসিন্দা শিবে পাত্র নিজেকে মেসির ‘দাদা’ বলে মনে করেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই আবেগ বুকে নিয়েই বেঁচে আছেন তিনি। শনিবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে মেসির সঙ্গে দেখা হল তাঁর।
ভক্তের অটুট আবেগ
-
বাড়িতে নীল-সাদা: মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ভালোবেসে শিবে পাত্র নিজের বাড়ির সর্বত্রই নীল-সাদা আর্জেন্টিনার জার্সির রঙে সাজিয়ে তুলেছেন। তাঁর চায়ের দোকানের দেওয়ালে টানানো রয়েছে মেসির শতাধিক ছবি।
-
কেক কাটা: দীর্ঘ বছর ধরে মেসির জন্মদিনে তাঁর বয়স অনুযায়ী কেক কাটেন তিনি।
-
স্বপ্নপূরণ: উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এদিন ভোরে উঠে রেডি হয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন শিবে পাত্র। তাঁর সঙ্গে মেয়ে গেলেও, একমাত্র শিবেকেই মেসির কাছে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
আবেগের মুহূর্ত
সাক্ষাৎকারে ‘দাদা’ হিসেবে মেসির পিঠ চাপড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন চা বিক্রেতা শিবে। এই দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে এ যেন এক স্বপ্ন সত্যি হওয়ার ঘটনা।
-
উপহার: মেসির জন্য উপহারস্বরূপ নিজের তৈরি নীল-সাদা রঙের বাড়ির একটি ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন শিবে। সেই ছবি দেখে মেসিও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন বলে জানান এই ভক্ত।
-
অটোগ্রাফ: ভক্তের আবদারে ওই ছবির উপরেই সই করে দেন মেসি।
যদিও নিরাপত্তা ও ব্যস্ততার কারণে প্রিয় তারকার সঙ্গে বেশি সময় কথা বলার সুযোগ মেলেনি তাঁর। তবে এতে কোনো আক্ষেপ নেই। বাড়ি ফিরেও স্বপ্নপূরণ হওয়ার এই আবেগ যেন সামলাতে পারছেন না শিবে পাত্র।
চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “জীবনে আর কিছু না হলেও চলবে। আজ আমি মরে গেলেও শান্তি পাব। মেসি আমার ছবি নিয়েছেন, আমার কথা শুনেছেন—এর থেকে বড় আর কিছু হতে পারে না।”
মেসিকে ভালোবেসে তাঁর তৈরি বাড়ি থেকে চায়ের দোকান—সবকিছুই সাজানো আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের রঙে। এই স্মরণীয় মুহূর্তকে আগলেই বাংলায় দিনযাপন করবেন মেসির এই ‘দাদা’।