ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবল মানুষ নয়, গরু ও মহিষের মতো পশুরাও পরিবর্তিত তাপমাত্রার প্রভাবে ভোগে। শীতকালে দুগ্ধজাত পশুদের দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা, যা পশুপালকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। তবে পশুচিকিৎসক ডা. অজয় রঘুবংশী একটি সহজ ঘরোয়া প্রতিকার শেয়ার করেছেন, যা দুধ উৎপাদনকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দিতে পারে।
সৈন্ধব লবণের যাদু: দুধ উৎপাদন হবে দ্বিগুণ!
ডা. রঘুবংশী ব্যাখ্যা করেছেন যে ঠান্ডায় পশুদের পাচনতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, যার কারণে তারা দুধ উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পশুপালকদের তাদের প্রতিদিনের খাবারে ৫০ গ্রাম সৈন্ধব লবণ (Sendha Namak) যোগ করা উচিত।
উপকারিতা: সৈন্ধব লবণ হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ সরবরাহ করে।
ফলাফল: ডাক্তারের মতে, যে সব প্রাণী সাধারণত ৩-৪ লিটার দুধ উৎপাদন করে, তারা সৈন্ধব লবণ দিলে দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে ৬-৭ লিটার পর্যন্ত দিতে পারে।
গুড় খাওয়ান এবং উষ্ণতা বজায় রাখুন:
সৈন্ধব লবণের পাশাপাশি, পশুদের তাদের খাবারের সঙ্গে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম গুড় খাওয়ানো উচিত। গুড় শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখতে এবং শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও, রাতে পশুদের কাছে আগুন জ্বালানো বা তাদের শরীর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই উষ্ণতা তাদের ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, যা সরাসরি দুধ উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যের সতর্কতা:
পশুচিকিৎসক আরও সতর্ক করেছেন যে পশুর আবাসস্থলে ময়লা, আর্দ্রতা বা জমে থাকা জল রাখা উচিত নয়। ময়লা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, যা শীতকালে আরও বেড়ে যায় এবং দুধ উৎপাদন কমিয়ে দেয়। খাবার খাওয়ানোর সময় তা যেন পোকামাকড় বা বিষাক্ত পদার্থ মুক্ত থাকে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুপালক যদি এই সহজ প্রতিকার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাদের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে ঠান্ডাতেও পশুরা বালতি ভর্তি দুধ দিতে পারে এবং তাদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।