চিনের শাংদং প্রদেশের ঝাওঝুয়াং থেকে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে। মাত্র আট বছর বয়সী এক বালক বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর জন্য নিজের মায়ের সোনার হার টুকরো টুকরো করে কেটে সহপাঠীদের মধ্যে উপহার হিসেবে বিলিয়ে দিয়েছে! দামি উপহারের মাধ্যমে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই তার লক্ষ্য ছিল বলে জানা গেছে।
মাসখানেক পর প্রকাশ্যে আসে ঘটনা
ছেলেটির মা প্রায় মাসখানেক ধরে বিষয়টি টেরই পাননি। একই স্কুলে পড়া তার দিদিই প্রথমে মাকে বিষয়টি জানায়। সে বলে যে, ভাই তার বন্ধুদের সোনা বা দামি উপহার দিয়েছে, এই কথা স্কুলে চাউর হয়ে গিয়েছে। তখনই মায়ের টনক নড়ে।
বিস্মিত ও হতভম্ব মা দেখেন, তাঁর বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া সোনার নেকলেসটি গায়েব! বিস্তর খোঁজাখুঁজির পর শুধু একটি খণ্ড হাতে পান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায়, ছেলেটি ড্রয়ার খুলে হারটি বের করে প্রথমে লাইটার দিয়ে গরম করে চিমটি দিয়ে কেটেছিল, এবং শেষ পর্যন্ত দাঁত দিয়েই কেটে খণ্ড খণ্ড করে বিলিয়ে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল
গত ২৮ নভেম্বর ছেলেটির মা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা তুলে ধরে লেখেন, “আপনারা হয়ত ভাববেন বানানো গল্প, কিন্তু সত্যি সত্যিই এমন ঘটেছে।” পরে ছেলেটি মায়ের কাছে এই কাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তবে কোন কোন বন্ধুকে সোনা দিয়েছে, বা বাকি সোনা কোথায় গেল, তা সে মনে করতে পারেনি। এই ঘটনা চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, শিশুদের নাগালের বাইরে মূল্যবান সোনাদানা রাখা উচিত।
চিনের আইন অনুযায়ী, আট বা তার ঊর্ধ্ব বয়সী শিশুরা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়। এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত মা-বাবার সম্মতিতেই তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ঘটনাটি নিয়ে রসিকতা হলেও, অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এখন থেকে সঠিক পথে চালনা করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ হতে পারে।