ইলিশের পর এবার পেঁয়াজ! রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই বাজারের লাগাম টানতে ভারত থেকে আমদানি শুরু করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চরম আকার নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরো বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই জনরোষ ও লাগামছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো ইউনূস প্রশাসন। ভারত থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি ও লাগামছাড়া মূল্য পরিস্থিতিকে বিপর্যস্ত করে তোলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে মোট ১,৫০০ টন পেঁয়াজ সীমান্ত পেরিয়ে হিলি বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ভারতকে সরবরাহ করতে রাজি হয়েছিল ঢাকা। এবার উলটো দিক থেকে পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার করতে হলো বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশ সরকার মোট ৫০ জন আমদানিকারককে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে প্রতি আমদানিকারককে মাত্র ৩০ টন করে পেঁয়াজ আনার অনুমতি মিলেছে। এই অনুমতির মেয়াদ আগামী বছর ২৬ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ব্যবসায়ী মহলের দাবি, বাজার স্বাভাবিক করতে এই পরিমাণ খুবই কম হলেও, সরকার দাম কমে এলে অতিরিক্ত আমদানির কারণে বাজারে যাতে চাপ না পড়ে, সেই কারণে সীমিত অনুমতি দিয়েছে।

হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের রপ্তানি শর্ত ও পরিবহন খরচ কম হওয়ায় দ্রুত বড় পরিমাণে পেঁয়াজ বাংলাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, বাজারে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার এখন ‘মানিটর অ্যান্ড অ্যাকশন’ নীতি নিয়ে বাজার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy