সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন মঙ্গলবার লোকসভায় নির্বাচন সংস্কার নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা পুনরীক্ষণ (এসআইআর), ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিলের উৎসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি এই আলোচনার সূচনা করেন। স্পিকার ওম বিড়লা এই আলোচনাকে সংবেদনশীল আখ্যা দিয়ে সদস্যদের প্রতি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এড়িয়ে সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করার অনুরোধ জানান।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
আলোচনার শুরুতে মনীশ তিওয়ারি বলেন যে, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় অংশীদার হলেন ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ আম্পায়ার-এর প্রয়োজনীয়তা থেকেই নির্বাচন কমিশনের জন্ম। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজীব গান্ধীর সরকারই দেশে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সংস্কার করে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ভোটাধিকার দিয়েছিল। কিন্তু আজ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
তিওয়ারি নির্বাচন সংস্কারের প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজন হিসেবে ২০২৩ সালে প্রণীত আইনে সংশোধনের দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ কমিটিতে আরও দুই সদস্য যুক্ত করা হোক। এই কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি এবং একজন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) থাকা উচিত।
ভোটার তালিকা পুনরীক্ষণ (SIR)-এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক
এসআইআর (Special Summary Revision) নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস সাংসদ বলেন যে, অনেক প্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। অথচ, কমিশনের কাছে আইনিভাবে এসআইআর করানোর কোনো অধিকার নেই। নির্বাচন কমিশন ধারা ২১-এর মাধ্যমে এসআইআর করানোর অধিকার দাবি করলেও, মনীশ তিওয়ারি সম্পূর্ণ ধারাটি পাঠ করে দেখান যে, সংবিধান বা আইনে কোথাও এসআইআর-এর সুস্পষ্ট বিধান নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর যেন নির্বাচন কমিশনকে একটি হাতিয়ার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকে, তবে লিখিত কারণ দেখিয়ে তবেই এসআইআর করা যেতে পারে। তিওয়ারি সরকারের কাছে দাবি জানান, কোন নির্বাচন এলাকায় কী কী ত্রুটি ছিল এবং কেন এসআইআর-এর প্রয়োজন হলো, সেই তথ্য যেন সরকার সংসদের সামনে রাখে।