ইন্ডিগো বিমান সংস্থায় কর্মী (ক্রু) অভাবজনিত ‘অপারেশনাল ক্রাইসিস’-এর কারণে দেশজুড়ে বিমান পরিষেবা ভয়ঙ্করভাবে ধাক্কা খেয়েছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী দেড় হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর জেরে দেশের একাধিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ, পরীক্ষা বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ভেস্তে গিয়েছে।
শনিবার আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যাত্রীদের ভোগান্তির ছবিটা একইরকম। ইন্ডিগো-র এই বিপর্যয়ে অনেকেই ক্ষোভে ও দুঃখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। যাত্রীদের দাবি, ইন্ডিগোর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনা এবং কয়েক মাসের পরিশ্রমকে মুহূর্তে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
স্বপ্ন ভেঙে গেল হ্যাকাথন জয়ীর:
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে আটকা পড়া এমনই একজন হতাশ যাত্রী হলেন মহর্ষি জানি। গুয়াহাটি যাওয়ার ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাঁর সমস্ত আশা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে মহর্ষি জানান, “গুয়াহাটি যাওয়ার জন্য আমার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইট ছিল। আমাদের ছয়জনের একটি দলকে স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২৫-এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। প্রায় ৭৪,০০০ প্রোজেক্টের মধ্যে ১৪০০টি নির্বাচিত হয়েছিল এবং আমাদের কেন্দ্র ছিল নর্থ-ইস্টার্ন হিল বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা ইন্ডিগোর ফ্লাইট বুক করেছিলাম, কিন্তু এখন আর যেতে পারব না। ট্রেনে গেলেও ৩ দিন সময় লাগবে। ৬-৭ মাসের কঠোর পরিশ্রম পুরোপুরি নষ্ট হলো। এমন সুযোগ সবসময় মেলে না।”
অন্যদিকে, জেদ্দা থেকে আসা ইকলাখ হুসেনও একই সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি জেদ্দা থেকে আহমেদাবাদ এসেছিলাম, এখান থেকে আমার লখনউ যাওয়ার কথা ছিল। গত ২ দিন ধরে আমি বিমানবন্দরেই আটকে রয়েছি।” ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর থেকেও বহু যাত্রী একই অভিযোগ করেছেন—ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।
সরকারের কঠোর অবস্থান ও সিইও-র আশ্বাস:
এই বিশৃঙ্খলার জন্য অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু ইন্ডিগোর অপর্যাপ্ত ক্রু এবং ডিসিজিএ-র নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) নিয়ম মেনে চলার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। মন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি যারা এই সমস্ত কিছুর তদন্ত করবে। খুঁজে বের করবে কোথায় ভুল হয়েছে এবং কে এই ভুল করেছে। আমরা এই যাত্রী ভোগান্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এদিকে, ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।