‘মালদার আদিনা মসজিদ কি আদতে আদিনাথ মন্দির?’ রাজ্যসভায় কেন এমন দাবি করলেন শমীক ভট্টাচার্য?

মালদার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেতা এবং রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্যসভার অধিবেশনে সরাসরি দাবি করেন যে আদিনা মসজিদটি আসলে ছিল একটি প্রাচীন আদিনাথ মন্দির, যা পরে মসজিদে রূপান্তরিত হয়। তাঁর এই দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং শমীক ভট্টাচার্য সেই দাবির সপক্ষে কিছু প্রমাণও তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে তিনি ওই কাঠামোর যথাযথ সংরক্ষণের দাবিও জানিয়েছেন।

শমীক ভট্টাচার্যের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি

আদিনা মসজিদটি আদতে আদিনাথ মন্দির ছিল—এই দাবি প্রমাণ করতে শমীক ভট্টাচার্য নিম্নলিখিত ব্যাখ্যাগুলি তুলে ধরেন:

স্থাপত্যগত মিল: তাঁর দাবি, মসজিদের কাঠামোর অভ্যন্তর এবং নির্মাণশৈলীতে এমন উপাদান রয়েছে যা মূলত হিন্দু বা বৌদ্ধ মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ভাস্কর্য ও অলঙ্করণ: শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন যে মসজিদের দেয়ালে এবং স্তম্ভগুলিতে হিন্দু দেব-দেবী বা সনাতন ধর্মের প্রতীকযুক্ত ভাস্কর্য বা অলঙ্করণের নিদর্শন রয়েছে। এই ধরনের ভাস্কর্য সাধারণত ইসলামিক স্থাপত্যে দেখা যায় না।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: তিনি ঐতিহাসিক নথির ভিত্তিতে যুক্তি দেন যে প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী হিন্দু মন্দির বিদ্যমান ছিল, যা পরে মুসলিম শাসকের হাতে পরিবর্তিত হয়।

সংরক্ষণের দাবি

শুধু দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্যসভায় এই ঐতিহাসিক কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে যথাযথ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কাঠামোটি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং এর হিন্দু মন্দিরের অতীত প্রমাণগুলিকে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।

বিজেপি নেতার এই দাবি মালদার স্থানীয় ইতিহাস এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার বা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy