এক পুতিন নন, আসছেন তিন পুতিন’! মোদীর ডাকে ভারতে পুতিনের ‘চলমান দুর্গ’, নিরাপত্তায় কী কী আনছেন রুশ প্রেসিডেন্ট?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi) আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার বছরের ব্যবধানে ফের ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। আজ ও আগামিকাল (৪-৫ ডিসেম্বর) তিনি নয়া দিল্লিতে থাকবেন। আজ বিকেলেই তিনি পৌঁছবেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তবে এই সফরে তাঁর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

🛡️ তিন পুতিন ও বডি ডাবলসের রহস্য:

পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তাঁর জীবন রহস্যময়। জানা যাচ্ছে, পুতিন মস্কো থেকে তিন-তিনজন ‘বডি ডাবল’ নিয়ে আসছেন।

উদ্দেশ্য: বিদেশ সফরে গেলেই তিনি হুবহু একই রকম দেখতে বডি ডাবল নিয়ে ঘোরেন। এর প্রধান কারণ, হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করা, যাতে কেউ বুঝতে না পারে কে আসল পুতিন।

প্রস্তুতি: দাবি করা হয়, বডি ডাবলরা প্রয়োজনে প্লাস্টিক সার্জারিও করিয়ে নেন, যাতে তারা দেখতে পুতিনের মতো হয়।

🚨 বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও মানবপ্রাচীর:

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পুতিন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত সতর্ক।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা: প্রকাশ্যে এলেই তিনি সবসময় কোটের নিচে ‘বুলেটপ্রুফ ভেস্ট’ পরেন।

মানবপ্রাচীর: তাঁর এসএসও (FSO) বডিগার্ডরা চুক্তিপত্রে সই করে আসেন যে, প্রাণ গেলেও তারা পুতিনের দিকে গুলি চললে, সামনে মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাঁকে ঘিরে দাঁড়াবেন।

অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা: কমপক্ষে দু’জন রক্ষীর হাতে থাকে অ্যান্টি-ড্রোন ইন্টারসেপ্টর যাতে ড্রোন হামলা থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে বাঁচানো যায়।

🚗 চলন্ত কমান্ড সেন্টার: অরাস সেনাট লিম্যুজিন:

পুতিনের সফরের আগেই নয়া দিল্লিতে এসে পৌঁছেছে তাঁর ‘চলমান দুর্গ’।

গাড়ি: এটি হলো ‘অরাস সেনাট’ লিম্যুজিন, যার ভিতরেই থাকে একটি কমান্ড সেন্টার।

ক্ষমতা: এই গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। বোমা বা গ্রেনেড হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং চারটি চাকা ফেটে গেলেও এর গতি কমবে না। ভিতরে রক্ত ও অক্সিজেনের সাপ্লাই-এর ব্যবস্থাও থাকে।

✈️ চারটি বিমান ও নিউক্লিয়ার কোড:

পুতিন তাঁর প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান—‘ইলিউশিন ২-৯৬’-এ চেপে দিল্লি নামবেন। এই বিমানে রয়েছে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ও স্যাটেলাইট কমিনিকেশন সেন্টার। নিরাপত্তার খাতিরে পুতিনের জন্য একটা নয়, আসছে চারটি বিমান। নামার আগে পর্যন্ত জানা যাবে না কোন বিমানে পুতিন আছেন।

নিউক্লিয়ার ফুটবল: পুতিন সঙ্গে করে আনছেন ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ (কালো ব্রিফকেস, যাতে পরমাণু হামলার কোড থাকে) এবং সেই কোডকেই বলে ‘নিউক্লিয়ার বিস্কুট’। এগুলো তিনি বিমান ও গাড়িতে সঙ্গে নিয়েই ঘোরেন।

এছাড়াও, পুতিন যেহেতু মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, তাই মস্কো থেকে হ্যাক করা অসম্ভব এমন সিকিওর টেলিফোন বুথ আসছে। তাঁর সফরসঙ্গীদের প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে ২ সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy