দেশের শীর্ষ আদালত একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে, বিয়ের সময় বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজন যে যৌতুক, টাকাপয়সা বা উপহার দেন, তা কেবল কনেকে নয়, বরকেও দেওয়া হয়। এই কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্বামী বা বরকে অবশ্যই সেই সমস্ত অর্থ ও উপহার পাইপয়সা বুঝিয়ে ফেরত দিতে হবে।
⚖️ হাইকোর্টের রায় খারিজ ও পর্যবেক্ষণ:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং এনকে সিংয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে এবং একইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়কে খারিজ করে দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে রায় দিয়েছিল যে, বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও স্বামী শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া যৌতুক ও উপহার রেখে দিতে পারবে।
পুরুষতান্ত্রিকতার অভিযোগ: সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ কড়া মন্তব্য করে বলেছে, ভারতের সংবিধান সকলের জন্য সমানাধিকারের কথা বললেও, পুরুষতান্ত্রিকতা আজও আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গিয়েছে। তাই স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে এক দৃষ্টিতে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আজও সমাজে তৈরি হয়নি এবং আমরা সমানাধিকারের আদর্শ ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছি। আদালত পারে সামাজিক ন্যায়বিচার দিয়ে এই অসাম্যের অবসান ঘটাতে।
📜 মুসলিম আইন প্রয়োগ:
শীর্ষ আদালত এই বিচারে মুসলিম মহিলা (বিবাহ বিচ্ছেদকালীন অধিকার রক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর ধারা প্রয়োগ করেছে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হল—বিবাহ বিচ্ছেদের শেষে মুসলিম মহিলার সম্মান ও আর্থিক সুরক্ষাকে নিশ্চিত করা। এই সুরক্ষার আদর্শ ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার মহিলা অধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
💡 আইন যা বলছে:
আদালত নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে:
একজন মহিলার বিয়ের আগে বা পরে তাঁর বাপেরবাড়ি থেকে দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি তাঁর নিজের।
এমনকি বিয়ের পরেও তাঁর কোনো আত্মীয় বা বন্ধু উপহার দিলে সেগুলির ওপর অধিকারও তাঁর।
স্বামী, স্বামীর বন্ধু বা আত্মীয়রা যে উপহার দিয়েছেন, সেগুলিও বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলার সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় দেন-মোহর বাবদ দেওয়া সমস্ত টাকাপয়সা এবং গয়নাগাঁটিও বিচ্ছেদের সময় মহিলাকে ফেরত দিতে হবে।
এই রায় বিশেষত ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলে থাকা মহিলাদের থাকা-খাওয়ার বঞ্চনা ও আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।