পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলায় এক হৃদয়বিদারক ও মানবিক দৃশ্য দেখা গেল। দীর্ঘদিন ধরে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করার পর শেষ পর্যন্ত মৃত সন্তানকে জন্ম দেয় এক মা হনুমান। বাঁচার শেষ আশা নিয়ে সে মানুষের দোরগোড়ায় এসে আশ্রয় নেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে পিংলার বেলাড়ের জগদীশ মণ্ডলের বাড়ির উঠোনে। হনুমানটি ধানের কাঁড়ের ওপর এসে ধপ করে বসে পড়েছিল। গ্রামের মানুষ প্রথমে এটিকে খাবারের সন্ধানে আসা স্বাভাবিক ঘটনা ভাবলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা বুঝতে পারেন হনুমানটি প্রসবের তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
নির্বাক ভাষায় ‘সাহায্য’ প্রার্থনা
গ্রামের মানুষদের চোখে জল আনে সেই মুহূর্ত, যখন তারা দেখেন—অর্ধপ্রসব অবস্থায় মৃত সন্তানকে আঁকড়ে ধরে অসহ্য ব্যথায় কাতর হনুমানটি যেন নির্বাক ভাষায় সাহায্যের প্রার্থনা করছে। তার সঙ্গীরাও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে তাকে সাহায্য করার মরিয়া চেষ্টা চালালেও, তারা সন্তানের জন্ম প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করাতে পারছিল না।
গ্রামের মানুষ তখন দেরি না করে পিংলা প্রাণিসম্পদ দফতরে ফোন করেন। সেখান থেকে খবর দ্রুত পৌঁছয় ডেবরা বন বিভাগের কাছে।
বন দফতরের রেসকিউ টিম ঘটনাস্থলে
প্রায় এক ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা নাগাদ রেসকিউ টিম ও পশুচিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা প্রসব যন্ত্রণায় কাতর হনুমানটিকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে তাকে চিকিৎসার জন্য বন দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মানবিকতার এই ঘটনা পশুর প্রতি মানুষের সংবেদনশীলতাকেই তুলে ধরল।