অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও প্রশ্ন! বিচারপতি অমৃতা সিনহা বললেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত হচ্ছেন বহু প্রার্থী’

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর বরাদ্দ করা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার কলকাতা হাইকোর্টেও পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহাও এই প্রশ্নে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা (Affidavit) চেয়েছেন। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

মামলাকারীদের প্রধান সওয়াল

এদিনের শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, দুর্নীতির বৃহত্তর স্বার্থে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই বাতিল করা উচিত।

  • ১০ নম্বর বাতিলের দাবি: আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, অভিজ্ঞতার জন্য কাউকে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে দুর্নীতিকেই লঘু করার চেষ্টা হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষায় বসার জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হওয়া সত্ত্বেও ১০ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা একটি নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে, যেখানে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার জায়গা নেই।

  • বঞ্চিত প্রার্থীরা: আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সওয়াল করেন, ২০১৬ সালের পরীক্ষায় ওয়েটলিস্টেড প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তাঁরা বয়সের কারণে নতুন পরীক্ষায় বসতে পারেননি, অথচ দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

বিচারপতির প্রশ্ন ও রাজ্যের বক্তব্য

নতুন পরীক্ষার্থীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন:

  • ‘২২ ঘণ্টায় রুল তৈরি কেন?’: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়োগ হলেও এটি SSC-এর নিজস্ব প্রক্রিয়া নয়। ২৯ মে নতুন রুল জারি হলো, ৩০ মে বিজ্ঞপ্তি। এই অল্প সময়ের মধ্যে এসএসসি কীভাবে অতিরিক্ত শূন্য পদ নির্ধারণ করে ফেলল, যা সম্ভব নয়?

এই সওয়ালের পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) কিশোর দত্তকে বলেন, “২০২৫ সালের রুল বহু প্রার্থীকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করেছে।”

জবাবে এজি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। আর যদি আদালত এখন ২০২৫ সালের রুল বাতিল করার নির্দেশ দেয়, তাহলেও ২০১৬ সালের রুল ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।